অজগরের পেট কাটতেই উদ্ধার মহিলার আস্ত দেহ, চাঞ্চল্য ইন্দোনেশিয়ায়

অজগরের পেট কাটতেই উদ্ধার মহিলার আস্ত দেহ, চাঞ্চল্য ইন্দোনেশিয়ায়

কলকাতা: অজগরের পেটে মহিলার আস্ত দেহ (Woman Found Inside Python Belly)! ইন্দোনেশিয়ার ঘটনার কথা চমকে দিয়েছে অনেককেই। মৃতার নাম ফরিদা, বয়স ৪৫ বছর। দিনতিনেক আগে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। তার পরই এই ঘটনা।

যা জানা গেল…
ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের কালেমপং গ্রামের বাসিন্দা ফরিদার চারটি সন্তান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ। তার পর থেকেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, তিনি নিজের বাগান থেকে ফিরছিলেন। কালেক্টরকে লঙ্কা বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর থেকেই খোঁজ শুরু হয়।  গ্রামপ্রধানের দাবি, শনিবার, ফরিদার স্বামী, হঠাৎই তাঁর স্ত্রীর কিছু জিনিসপত্রের হদিস পান। ফলে কিছু একটা সংশয় দানা বাঁধে। গ্রামবাসীরা তল্লাশি শুরু করেন। তখনই খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। হঠাৎ এক বিরাট অজগরের খোঁজ মেলে। তার পেটের জায়গাটি অস্বাভাবিক রকম ফোলা দেখে আরও সন্দেহ তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা তখনই ঠিক করেন, অজগরের পেট কেটে দেখা হবে। সকলে মিলে অজগরটিকে মারেন। তার পর প্রাণীটির পেট কাটা হয়। আর পেট কাটতেই ফরিদার মাথা দেখা যায়।
প্রায় ১৬ ফুট লম্বা, রেটিকুলেটেড পাইথনের পেট থেকে ফরিদার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর নিথর দেহে সম্পূর্ণ পোশাক পরা ছিল। এই ধরনের ঘটনা বেশ বিরল হলেও ইন্দোশেনিয়ায় বহু মানুষই অজগরের পেটে গিয়েছেন। গত বছরই, যেমন, দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের টিনানগ্গেগা জেলায় একটি ৮ ফুট অজগরকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটে। ওই প্রদেশের এক কৃষককে গিলে ফেলার চেষ্টা করছিল সে। ২০১৮ সালে, দক্ষিণ সুলাওয়েসিরই মুনা শহরে ৭ ফুট লম্বা অজগরের দেহে এক ৫৪ বছরের প্রৌঢ়ার দেহ মিলেছিল। ঠিক তার আগের বছরে, পশ্চিম সুলাওয়েসি, এক কৃষক নিখোঁজ হয়ে যান। তাল গাছের খেতে একটি চার ফুটের অজগরের  পেট থেকে ওই কৃষকের দেহ, আস্ত উদ্ধার হয়। সেই তালিকায় এবার সংযোজন ৪৫ বছরের ফরিদা।

গবেষণা…
বছরদেড়েক আগে এক গবেষণায় দাবি করা হয়, ‘বার্মিজ পাইথন’-র চোয়াল এতটাই বড় হতে পারে যে তারা হরিণ বা কুমিরের মতো প্রাণীও গিলে ফেলতে সক্ষম। তাদের আয়তনের অন্যান্য সাপের তুলনায় ৬ গুণ লম্বা প্রাণী গিলতে পারে এই  ‘বার্মিজ পাইথন’-রা। তবে, একই গবেষণায় উঠে এসেছিল যে ‘বার্মিজ পাইথন’-দের আদত বসতি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই তাদের অস্তিত্ব বেশ চাপের মুখে। মনুষ্য-বসতি বাড়ার ফলে তাদের চলাফেরা স্থান সঙ্কুচিত হ্চছে। তারই জেরে কি এই ঘটনার বাড়বাড়ন্ত?

(Feed Source: abplive.com)