দেশে প্রেম-বিয়ে বাড়ানোর জন্য ডেটিং অ্যাপ আনছে জাপান! মাস্ক বললেন- আমি খুব খুশি

দেশে প্রেম-বিয়ে বাড়ানোর জন্য ডেটিং অ্যাপ আনছে জাপান! মাস্ক বললেন- আমি খুব খুশি

সভ্যতাই শেষ হয়ে যাবে। বিয়েও করছে না জাপানের মানুষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য দেখিয়েছে যে ২০২২ সালে ৫০৪,৯৩০টি বিবাহের সংখ্যা থেকে ২০২৩ সালে ৪৭৪৭১৭-এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে জন্মহারও একই প্রবণতা অনুসরণ করে, ৭৭০,৭৫৯ থেকে ৭২৭,২৭৭ এ কমে গিয়েছে। এদিকে শিশু জন্ম না হলে মহা বিপাকে পড়তে পারে জাপান। সে দেশে ক্রমহ্রাসমান জন্মহারের কারণে অনেক আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ১১ সন্তানের বাবা ইলন মাস্ক। এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে জাপান সরকার নিজেই।

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরেও বিশ্বে জাপানের মতো এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে জন্মহার কমছে। এ জন্য নতুন পদ্ধতির চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন জাপানের টোকিও প্রশাসনও দেশটির ক্রমহ্রাসমান জন্মহার মোকাবেলায় শীঘ্রই একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করতে চলেছে। টোকিও প্রশাসন ২০২৩ সালের বাজেটে ২০০ মিলিয়ন ইয়েন এবং ২০২৪ সালের বাজেটে ৩০০ মিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ করেছিল, অ্যাপ এবং অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে বিবাহ প্রচারের জন্য।

ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুসারে, জাপানের জন্মহার টানা অষ্টম বছরের জন্য কমতে চলেছে। এখন জন্মের সংখ্যা এক বছর আগের থেকে ৫.১ শতাংশ কমে ৭৫৮,৬৩১-এ দাঁড়িয়েছে, বিবাহের সংখ্যা ৫.৯ শতাংশ কমে ৪৮৯,২৮১ হয়েছে। ৯০ বছরে প্রথমবারের মতো সংখ্যাটি ৫০০,০০০-এর নীচে নেমে এসেছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৩ সালে জাপানে নতুন শিশুর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল।

জাপানে সন্তান ও সম্পর্কের হাল বেহাল

বিয়ের বহু বছর পরও এখানে অধিকাংশ মানুষের সন্তান হয় না। এ কারণে জাপানে তরুণ সংখ্যা ক্রমাগত কমছে, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জাপানে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও কমে গিয়েছে। দেশটি তাই বিপর্যস্ত। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানিদের নিয়ে একটি নতুন জরিপে দেখা গিয়েছে যে ৭০ শতাংশ অবিবাহিত পুরুষ এবং ৬০ শতাংশ অবিবাহিত নারী, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী সম্পর্কের ব্যাপারে আগ্রহী নন। এমনও ৩০ শতাংশ দম্পতি রয়েছেন, যাঁদের বিয়ের বহু বছর পরও সন্তান হয় না। সে ব্যাপারে উৎসাহিত করতে, এ কারণে সে দেশের সরকার সন্তান ধারণের জন্য নগদ পুরস্কার দিয়ে থাকেন। এখন যেমন প্রতিটি শিশুকে ৬ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। জাপানে জন্মহার মাত্র ১.৪৬, যা দেশের জন্য সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

অ্যাপটির নাম কী হবে

টোকিও ফুটারি স্টোরি অর্থাৎ টোকিও টু পিপল স্টোরি। যদিও এককদের জন্য প্রেমের পরামর্শ এবং সাধারণ তথ্য প্রদানকারী একটি ওয়েবসাইট ইতিমধ্যেই লাইভ রয়েছে জাপানে, তবে এই প্রোগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হল একটি ডেটিং অ্যাপ, যা ডেভেলপমেন্ট চলছে। শহরের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য ২০২৪-এর শেষের দিকে এটি রিলিজ করা হতে পারে। স্মার্টফোন এবং ওয়েব উভয় মাধ্যমেই অ্যাক্সেসযোগ্য হবে।

অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য কয়েকটি শর্ত রেখেছে সরকার

অ্যাপটির সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এখনও পরিষ্কার নয়। তবে, একটি মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, টোকিও এই গ্রীষ্মের শুরুতে তাদের নিজস্ব ডেটিং অ্যাপ চালু করবে, জাতীয় জন্মহার বাড়াতে। মঙ্গলবার এক কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীরা যে অবিবাহিত, তা প্রমাণ করার জন্য নথি জমা দিতে হবে। তাঁকে একটি চিঠিতেও স্বাক্ষর করতে হবে, যাতে লেখা থাকবে তিনি বিয়ে করতে প্রস্তুত। নাগরিকদের জন্য জাপানি ডেটিং অ্যাপে নিজেদের আয় সম্পর্কে জানানো বাধ্যতামূলক হবে। জনগণকে তাঁদের বার্ষিক বেতনের প্রমাণ স্বরূপ একটি ট্যাক্স সার্টিফিকেটও জমা দিতে হবে।

প্রশংসায় পঞ্চমুখ মাস্ক

এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করায় তিনি খুবই খুশি। এবার জাপানের প্রশংসা করে মাইক্রোব্লগিং সাইটে ইলন মাস্ক লিখেছেন, ‘আমি আনন্দিত যে জাপান সরকার এই বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ না করলে জাপানসহ আরও অনেক দেশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এক্স-এর মালিক মাস্ক সবসময়ই মানব সভ্যতায় সন্তানের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলে এসেছেন। তাঁর নিজেরও ১১ সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন যে মানুষ যদি বেশি সংখ্যক সন্তানের না জন্ম দেয়, তাহলে সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে। সে সময় মাস্কের ছয় সন্তান ছিল। গত বছর ইতালিতেও এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে জন্মহার কমে যাওয়ার বিষয়টি আবারও তুলে ধরেছিলেন এক্স মালিক। তিনি দাবি করেছিলেন যে আরও সন্তান ধারণ করাই জনসংখ্যা হ্রাস রোধ করার একমাত্র উপায় যা বিশ্বের অনেক উন্নত অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

(Feed Source: hindustantimes.com)