কবিতার ছন্দে ইংরেজি ব্যাকরণ! ৯০বছরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বই লিখলেন পড়ুয়াদের জন্য

কবিতার ছন্দে ইংরেজি ব্যাকরণ! ৯০বছরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বই লিখলেন পড়ুয়াদের জন্য

পশ্চিম মেদিনীপুর: ছন্দের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা, বেশ উপকারী পড়ুয়াদের কাছে। একদিকে যেমন মনে থাকে বেশিক্ষণ, তেমনই পাঠগ্রহণ করা সম্ভব হয়। জীবনে শুরুর দিকে ইংরেজি বর্ণমালা, বাংলা বর্ণমালা, ব্যাকরণ, টেনস, গ্রামার শিখতেই হয়। তবে ছোট্ট ছোট্ট পড়ুয়াদের কাছে বেশ কঠিন হয়ে যায় এই পড়াশোনা। সহজেই যাতে ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি গ্রামার, টেনসের বিভিন্ন ভাগ কিংবা বিভিন্ন শব্দ মনে রাখতে পারে, তাই পশ্চিম মেদনীপুরের এক বৃদ্ধ ছন্দ মিলিয়ে চার চারটি বই লিখে ফেলেছেন।

ইংরেজি গ্রামার, ওয়ার্ড বুক, বাংলা বর্ণমালা এবং কবিতার বই। আর এই পড়াশোনার ক্ষেত্রে ছড়ায় শিক্ষাদানকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষকের গুণ এবং কৃতিত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।

বয়স প্রায় ৯৪। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার আসন্দা এলাকার বাসিন্দা কৃত্তিবাস মণ্ডল। জন্ম, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে। ছোট থেকে অভাবের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা তাঁর। বাড়ির দোকান সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে সেই সময়। এরপরও তিনি চালিয়ে গিয়েছিলেন পড়াশোনা। বাড়ির নানা কাজ সামলাতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ক্লাসে তাঁকে ব্যর্থও হতে হয়েছিল। তবে তিনি দমে থাকেননি। শেখার আগ্রহ এবং অন্যকে শেখানোর তাগিদে তিনি পড়াশোনা করেছেন।

স্কুল ফাইনাল পাস করে তিনি পেয়েছিলেন প্রাইমারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ। এখানে নিরন্তর ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর কাজ তিনি করে গিয়েছেন। তাঁর হাতে তৈরি হওয়া ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজ প্রতিষ্ঠিত। তবে এবার তাঁর ভাবনা এনে দিয়েছে সম্মান।

যখন তিনি প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ কলেজে পড়াশোনা করতে করতেই ছন্দ মিলিয়ে লেখার কাজ শুরু করেন। ছাত্রছাত্রীদের বোঝানোর জন্য তিনি ইংরেজি ওয়ার্ড বুক কিংবা গ্রামারও ছন্দ মিলিয়ে লিখেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য, মজার ছলে ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হোক কঠিন জিনিস। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁর লেখা বই বিক্রি হচ্ছে।

বয়স ৯০ পেরোলেও এই বয়সে তিনি চালু রেখেছেন পড়াশোনা এবং লেখালেখির কাজ। সকাল থেকে প্রাত্যহিক নানান কাজের পাশাপাশি সাইকেলে চেপে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরা, নানান সামাজিক এবং ধর্মীয় কাজে অংশ নেন তিনি। শুধু তাই নয় এখনও তিনি নানা লেখালেখির কাজ করেন। বৃদ্ধ বয়সে এসেও যখন কিঞ্চিত স্মৃতিভ্রম হচ্ছে তখনও তিনি থেমে যাননি। কেবল পড়াশোনা নয়, অসাধারণ বাঁশিও বাজাতে পারেন বৃদ্ধ। তবে কোনও কালেই তালিম নেননি।

কৃত্তিবাস বাবুর ছেলেরা কেউ ডাক্তার, কেউ আবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এখনও মনের জোর এবং সাহস তাঁকে যুবক করে রেখেছে। কৃত্তিবাস বাবুর এহেন ভাবনা চিন্তা এনে দিয়েছেন নানা সম্মান। তার এই প্রতিভাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।

রঞ্জন চন্দ

(Feed Source: news18.com)