
সান নিউজ ডেস্ক: শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা-২০২৩।
বিকেল ৩টায় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা- ২০২৩’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য- ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। এছাড়াও ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২’ বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেবেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।
বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৬৫টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৩৬টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬০১টি প্রতিষ্ঠানকে ৯০১টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৮টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।
ছুটির দিন ছাড়া মেলা চলবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে দর্শক, ক্রেতা ও পাঠকেরা রাত সাড়ে ৮টার পরে মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবেন না। অন্যদিকে ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে মেলা শুরু হবে। মেলা চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এবারের বইমেলার আঙ্গিকগত ও বিন্যাসে আনা হয়েছে পরিবর্তন। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মূল প্রবেশপথ একটু সরিয়ে বাংলা একাডেমির মূল প্রবেশপথের উল্টো দিকে অর্থাৎ মন্দিরগেটটি মূল প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গতবারের প্রবেশপথটি চিহ্নিত থাকবে বাহির পথ হিসেবে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে আরো ৩টি প্রবেশ ও বাহিরপথ থাকবে।
বইমেলা উপলক্ষে গত সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে বইমেলার সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম জানান, গতবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশন অংশে ১৮২টি স্টল এবং ১১টি প্যাভিলিয়ন ছিল। পাঠক, দর্শক এবং প্রকাশকদের সম্মিলিত আহ্বান ছিলো এবারের মেলায় যেন তাদের দৃশ্যমান অংশে সন্নিবেশ করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ২০২৩ এর বইমেলার বিন্যাস সবার জন্যই মনোপুত এবং বাস্তবসম্মত হয়েছে।
গতবারের ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনের স্থানটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবার জায়গা হিসেবে। অন্যদিকে খাবারের স্টলগুলোকে এবার এমনভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যেন এলোমেলোভাবে খাবারের স্টল বইমেলায় আসা পাঠকের মনোযোগ বিঘ্নিত না করে।
বইমেলার সদস্যসচিব জানান, শিশুচত্বরটির পরিধি কম হওয়ায় এবার এই চত্বরটি মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে। যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে।
এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্রন্থ উন্মোচন অংশের কাছাকাছি। সেখানে ১৫৩টিসহ ৫টি স্থানে লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলা একাডেমির তিনটি প্যাভিলিয়ন এবং শিশু-কিশোর উপযোগী প্রকাশনা বিপণনের জন্য একটি স্টল থাকবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলবে ‘শিশুপ্রহর’। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
উল্লেখ্য, অমর একুশে গ্রন্থমেলা স্বাধীন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের যে বীরত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই আয়োজিত এই বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।
(Feed Source: sunnews24x7.com)
