
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেমন হল বাজেট? এত বড় দেশের এত বড় বাজেট নিয়ে স্বভাবতই নানা জন নানা মত দেবেন, নানা কথা বলবেন। ভালো-মন্দ দুইই বলবেন। সমালোচনা করবেন, পরামর্শও দেবেন। কিন্তু এই জাতীয় মতামত যদি পি চিদম্বরমের কাছ থেকে আসে তবে সেটা আলাদা তাৎপর্য বহন করে। কারণ তিনি তো শুধু বিরোধী দলের বক্তব্যই বলছেন না, পাশাপাশি তিনি একজন বিশেষজ্ঞের মতামতও দিচ্ছেন। তাঁর একটি পরিচয় হল তিনি এ দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। ২০১২ থেকে ২০১৪ পি চিদম্বরম প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মন্ত্রকে অর্থ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের বাজেটের কড়া সমালোচনা করলেন। তিনি ‘বিট্রে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বলেছেন, নির্মলার এই বাজেট গরিব সাধারণ মানুষের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতায় পূর্ণ। এই বাজেট সাধারণ মানুষকে আশাহতই করেছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এই বাজেটই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, এই সরকার সাধারণ মানুষের থেকে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন স্বার্থ থেকে কতটা দূরে সরে এসেছে! এই ধরনের বাজেটই আসলে গরিব ও বড়লোকের মধ্যে বৈষম্যটাকে বাড়িয়ে চলে, যেমন এটাও করবে।
বাজেট ভাষণ চলাকালীনই তিনি ২০২৩-২৪ এই বাজেটকে ‘ক্যালাস’ আখ্যা দিয়েছেন। বাজেটকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি জানিয়েছেন, এই বাজেটে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, আর্থিক অসাম্য ইত্যাদি নিয়ে কোনও কথাই নেই। চিদম্বরম জানান, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ তাঁর বাজেট বক্তৃতায় দয়া করে দুবার পুওর কথাটা উচ্চারণ করেছেন! জিএসটি-তে বা করের ক্ষেত্রেও কোনও সদর্থক ছাড় নেই! মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আগুন দাম– এসব নিয়ে কোনও কথাই নেই দেখে আশ্চর্য হয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বুধবার অর্থাৎ, আজ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালের বাজেট পেশ করলেন। ১ এপ্রিল, ২০২৩ থেকে শুরু হতে চলা অর্থবর্ষের জন্য এই কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৩ পেশ করলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সংসদের উভয় কক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তৃতার পরে, অর্থমন্ত্রী সীতারামন ২০২২-২৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করেছিলেন। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের জিডিপি ২০২৩-২৪ সালে ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধি অবশ্য গত দুই অর্থবর্ষের তুলনায় কম (বর্তমান অর্থবছরের ৭ শতাংশ, ২০২১-২০২২ সালে ছিল ৮.৭ শতাংশ)। বাজেট উপস্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও, ভারতের বাজেট সাধারণ নাগরিকদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করবে এবং বিশ্বের জন্য আশার আলো দেখাবে।
(Feed Source: zeenews.com)
