
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্যালেন্ডার বলছে ৭ এপ্রিল। অর্থাৎ ন্যাশনাল বিয়ার ডে (National Beer Day)। প্রতি বছর এই দিনটা পালন করা হয় মার্কিন মুলুকে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। মানুষের হাতে তৈরি হওয়া অন্যতম প্রাচীন পানীয়র মধ্যেই বিয়ার। ইতিহাস বলছে ২০৫০ বিসি-তেও বিয়ারের অস্তিত্ব ছিল। ব্রিউ রেসিপি ও বিয়ার বাণিজ্যের প্রমাণও রয়েছে। তবে অনেকেই বলে থাকেন যে, বিয়ার খুব একটা দামি নয়। তাঁদের মতে ওয়াইন (Wine), শ্যাম্পেন (Champagnes), হুইস্কি (Whiskey) এবং স্কচই (Scotch) হয় মহামূল্যবান। তবে এই প্রতিবেদন পড়ার পর তাঁদের চোখ কপালেই উঠবে। কখনও শুনেছেন কি এক বোতল বিয়ারের দাম একটি রোলস রয়েস (Rolls-Royce) ঘোস্ট মডেলের গাড়ির চেয়েও বেশি! আড়াই থেকে তিন কোটি টাকায় পাওয়া যায় একটি রোলস রয়েসের ঘোস্ট মডেল। তবে অ্যালসপ’স আর্টিক আইলের (Allsopp’s Arctic Ale) দাম তার চেয়েও বেশি।
এখন প্রশ্ন আর্টিক আইল কী করে বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিয়ার হয়ে গেল! এই বিয়ার ১৪০ বছরের পুরনো। এর রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এ এমনই বিয়ার যা প্রত্নবস্তুর ক্যাটেগরিতে পড়ে। বিশেষ কিছু গুণাবলীর জন্যই দাম আকাশ ছোঁওয়া। অ্যান্টিক’স ট্রেডের রিপোর্ট বলছে ইবে-তে একজন ওকলাহোমার ক্রেতা ২০০৭ সালে এই বিয়ার কিনেছিলেন ৩০৪ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে। ম্যাসাচুসেটসের বিক্রেতাকে তিনি শিপিং চার্জ হিসেবে দিয়েছিলেন ১৯.৯৫ মার্কিন ডলার। অ্যান্টিকসট্রেডগেজেটডটকম বলছে যে, এই বোতলের সঙ্গে হাতে লেখা একটি ল্যামিনেট করা নোট ছিল। পার্সি জি বোলস্টার সেই নোটে লিখেছেন যে, ১৯১৯ সালে তিনি বোতলটি পেয়েছিলেন।
সেই নোটে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যা চমকে দেওয়ার মতো। এই বিয়ারটি তৈরি করা হয়েছিল ১৮৫২ সালে মেরু অভিযানের সময়ে। এখানেই শেষ নয়, এরেবাস, টেরর ও তাঁদের ক্রুরা মেরু অভিযানে গিয়ে ভয়ংকর সমুদ্র যাত্রার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য উত্তর-পশ্চিম প্যাসেজ (আর্কটিক সাগর হয়ে অতলান্তিক ও পারস্য মহাসাগরের মধ্যবর্তী রুট) ধরে দু’টি জাহাজ তাঁদের খুঁজতে বেরিয়েছিল। উদ্ধার অভিযানে গিয়ে একটি ট্রাংকের মধ্যে সেই বোতলটি খুঁজে পান তাঁরা। এই বোতলটি পরে ইবে থেকে নিলামে কেনার জন্য ১৫৭ জন দর দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৫,০৩,৩০০ ডলারে বোতলটি বিক্রি হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম ৪.০৫ কোটি টাকা।
(Feed Source: zeenews.com)
