
কলকাতা: স্বামীকে ভিতু, কাপরুষ, বেকার বলে গঞ্জনা! স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদ চাইলেন স্বামী৷ শুধু তাই নয়, আদালতও রায় দিলেন স্বামীরই পক্ষে৷ পাশাপাশি, আদালত জানাল, বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা থাকতে স্বামীকে বাধ্য করা হলে সেই স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ দেওয়ার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই৷ সম্প্রতি একটি বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের৷
২০০১ সালে বিয়ে হয় ওই দম্পতির৷ দীর্ঘ দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকেন না। তবে তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে৷ বছর কয়েক আগে স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন এবং সংসারে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ওই ব্যক্তি৷
মেদিনীপুরের নিম্ন আদালত স্বামীর পক্ষেই রায় দেয়৷ কিন্তু, নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন জানান স্ত্রী৷ সেখানেও আদালতে দাঁড়িয়ে একই অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি৷ শুধু তাই নয়, এই দফা স্ত্রীয়ের ডায়েরিতে লেখা একটি অংশও তুলে ধরেন তিনি৷ যেখানে লেখা ছিল, ‘‘আমি সেই কাপুরুষকে ঘৃণা করি যাঁকে আমি বিয়ে করতে চলেছি। আমি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চাই।’’
উচ্চ আদালতের মতে, স্বামীকে ‘ভীতু’, ‘কাপুরুষ’ বা ‘বেকার’ বলা মানসিক নির্যাতনের সমকক্ষ। এছাড়া, স্বামীকে তাঁর বাবা-মায়ের থেকে আলাদা করার চেষ্টাও ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। তাই ওই স্ত্রীয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চাইতেই পারেন স্বামী।
বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, পিতামাতাকে সন্তান দেখভাল করবেন, তাঁদের সঙ্গে একই পরিবারে বসবাস করবেন এমন হওয়াই ভারতীয় সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া পরিবার থেকে স্বামীকে আলাদা করার চেষ্টা করা হলে তা স্ত্রীয়ের নির্মমতার পরিচয়। এ জন্য স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।
তাই নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল থাকবে। তবে স্বামীকে স্ত্রী এবং তাঁদের একমাত্র সন্তানের উপযুক্ত ভরণপোষণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
