
নয়াদিল্লি: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনার প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী বাদল অধিবেশনেই আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। সূত্রের খবর, সম্প্রতি আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু আরএসএস সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার সহ স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল তৈরির সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন তিনি।
২২তম আইন কমিশন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমস্ত দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খসড়া তৈরি করবে। যদিও এই বিতর্কিত বিধির বিরোধিতা করে ২১তম আইন কমিশন। তাদের দাবি, দেশে এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনও বিধির প্রয়োজন বা প্রত্যাশা কোনওটাই নেই।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে প্রাইভেট মেম্বার বিল আসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। রাজ্যসভায় প্রাইভেট মেম্বার বিল হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি পেশ করেন বিজেপি সাংসদ কিরোরিলাল মিনা। বিলটির পক্ষে ভোট পড়েছে ৬৩টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩টি। ফলে বিরোধীদের আপত্তি খারিজ হয়ে যায়। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিধি দেশে বিভাজন তৈরি করবে এবং ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করবে। বিলটির বিরুদ্ধে একযোগে সরব হয় কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি। অন্যদিকে ওয়াক আউট করে বিজু জনতা দল।
এই বিলের বিরোধিতায় আইন কমিশনের রিপোর্ট তুলে ধরে সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বলেন, ‘এই বিল প্রয়োজনীয় বা কাম্য কোনওটাই নয়।’ ডিএমকে সাংসদ ত্রিরুচি শিবা বলেন, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আঘাত করে।’ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংবিধানের অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেন সমাজবাদী পার্টি সাংসদ রামগোপাল যাদব। প্রাইভেট মেম্বার বিলের পাশাপাশি রাজ্যসভায় জিরো আওয়ারে আলোচনার দাবি জানান বিজেপি সাংসদ হরনাথ সিং যাদব। গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে হলফনামা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে বলা হয়, ‘এটি একটি নীতিগত বিষয়। ফলে এই বিষয়ে একমাত্র সংসদ বা আইনসভাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
