
রাজস্থান: প্রতিদিন কত বিচিত্র রকমের অপরাধের খবর সামনে আসে। এর মধ্যে কিছু ঘটনা শুনলে শিউড়ে উঠতে হয়। আবার কিছু ঘটনা অবাক করে। রাজস্থানের বারমেরের ঘটনা সেরকমই। এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নৃশংসতা। ঠিক কী ঘটেছে? রাজস্থানের বারমের জেলার বাসিন্দা ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ সম্প্রতি বিয়ে করেন ২৫ বছরের যুবতীকে। বিয়ের এই খবর শুনে সবাই চমকে উঠেছিল। কিন্তু চমকের যে আরও বাকি আছে সেটা তখন বোঝা যায়নি। বিয়ের ১০ দিনের মধ্যেই স্ত্রীকে খুন করেন ওই বৃদ্ধ। তারপর নিজেও খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। বর্তমানে অভিযুক্ত বৃদ্ধ স্বামী বারমের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বারমের সীমান্তবর্তী ধনৌ থানার পুঞ্জা গ্রামের ঘটনা। জানা গিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এজেন্টের মাধ্যমে তাঁর অর্ধেকেরও কম বয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তারপর বসবাস শুরু করেন ওই গ্রামে। কিন্তু বিয়ের ১০ দিনের মাথায় স্ত্রীকে খুন করেন বৃদ্ধ। নিজেই গ্রামবাসীদের জানান সে কথা। ঘটনার কথা শুনে গ্রামবাসী ভিড় জমান। ঠিক সেই সময় খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই বৃদ্ধ। আশেপাশের লোকজন বৃদ্ধকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাঁচো হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারমের জেলা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ যা বলছে: পুলিশ জানিয়েছে, ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন ওই বৃদ্ধ। ধনৌ-এর পুলিশ অফিসার ওমপ্রকাশ জানিয়েছেন, ৬০ বছর বয়সী সেলিম খান বিহারের মধুবনির ২৫ বছর বয়সী সাবানা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন তিনি। তার কয়েক দিন যেতে না যেতেই খুন। খুনের পর সেলিম নিজেই প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা জানান। তারপর ভয়ে নিজেও খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সেলিম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাড়িতে তাঁর ১০৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ স্ত্রীর সঙ্গে সেলিমের কোনও কিছু নিয়ে অশান্তি চলছিল। তার জেরেই রাগের মাথায় এই খুন।
