‘চতুর্দিকে পড়েছিল লাশ, চাপ চাপ রক্ত’, চোখ বন্ধ করলেই শুক্রবারের ভয়ঙ্কর স্মৃতি!

‘চতুর্দিকে পড়েছিল লাশ, চাপ চাপ রক্ত’, চোখ বন্ধ করলেই শুক্রবারের ভয়ঙ্কর স্মৃতি!

কলকাতা: ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত করমণ্ডল এক্সপ্রেসে করেই সস্ত্রীক চেন্নাই যাচ্ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকার বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন বাঘা৷ বেশ ভালই চলছিল ট্রেনটা৷ তখন ওই সাড়ে ৬টা মতো হবে৷ পানীয় জল আনতে প্যান্ট্রি করের দিকে এগিয়েছিলেন৷ এরমধ্যে হঠাৎই প্রচণ্ড জোড়ে কেঁপে উঠল ট্রেনটা৷ যেন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প! তারপরেই নিশ্ছিদ্র অন্ধকার৷ কানে এল মধ্যে শয়ে শয়ে আর্ত চিৎকার৷ আতঙ্ক, আর্তনাদ, আকুতি৷

প্রথমটায় কী হয়েছে, এর পর কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না৷ স্ত্রী পূর্ণিমা তো তখনও কোচে৷ উনি ঠিক আছেন তো? কোনও রকমে প্যান্ট্রি কার থেকে বেরিয়ে নিজের কোচের সামনে আসেন চিত্তরঞ্জন৷ ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়৷ চর্তুদিকে শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মৃতদেহ৷ চারপাশে চাপ চাপ রক্ত৷ স্নায়ু যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিল৷ কী ভাবে বাঁচাবেন স্ত্রীকে? বুঝে উঠতে পারছিলেন না৷

অবশেষে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং রেসকিফ টিমের সদস্যদের সহযোগিতায় জানলার কাচ ভেঙে স্ত্রী পূর্ণিমাকে উদ্ধার করেন তিনি৷ রাতেই তাঁদের বালেশ্বরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই হয় প্রাথমিক চিকিৎসা৷ কিন্তু, পূর্ণিমা দেবীর অবস্থা একটু সঙ্গীন হওয়ায় রাতেই গাড়ির ব্যবস্থা করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন কলকাতার এই দম্পতি৷

বর্তমানে পূর্ণিমা কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর মাথায় ও হাতে চোট লেগেছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে পূর্ণিমা বলছিলেন, “মেয়ে চেন্নাইয়ে পড়াশোনা করে৷ ওকে দেখতেই আমরা দুজনে চেন্নাই যাচ্ছিলাম৷ তার পর যা হল…এখনও ভুলতে পারছি না। ট্রমার মধ্যে রয়েছি। বীভৎস ঘটনা৷ চোখ বন্ধ করলেই ভয় করছে। এখনও ভয়ে কাঁটা দিচ্ছে গায়ে।’’ বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে টালিগঞ্জ এলাকায় নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরেছেন চিত্তরঞ্জন। যদিও স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

(Feed Source: news18.com)