এসএসকেএম-এর চিকিৎসকদের অসাধ্য সাধন! সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৮১ বছরের বৃদ্ধা

এসএসকেএম-এর চিকিৎসকদের অসাধ্য সাধন! সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৮১ বছরের বৃদ্ধা

কলকাতা: ফের অসম্ভবকে সম্ভব করল কলকাতার সরকারি হাসপাতাল।  জটিল অস্ত্রোপচার করে নজির গড়ল এসএসকেএম।  ৮১ বছরের বৃদ্ধার জটিল অস্ত্রোপচার করে সম্পূর্ণ সুস্থ করা হল তাঁকে। সিওপিডিতে আক্রান্ত দীপালি রায় নামে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধার বুক না কেটে টাভি পদ্ধতিতে চিকিৎসা করল এসএসকেএম।

হৃদযন্ত্রের চিকিৎসায় অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ পদ্ধতি হল ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট বা টাভি। চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, এতদিন বেশি সংখ্যক রোগী দেখার নিরিখে অনেক এগিয়ে ছিল সরকারি হাসপাতালগুলি। এবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও পিছিয়ে রইল না অন্যতম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, কোনও রোগীর মহা ধমনী ও হৃদযন্ত্রের বাম নিলয়ের মধ্যবর্তী ভালভে স্টেনোসিস হয় এবং তা সংকুচিত হয়ে যায় তখন চিকিৎসার জন্য খোলা থাকে দু’টি মাত্র পথ। প্রথম, ভালভ প্রতিস্থাপন। দীপালিদেবীর ক্ষেত্রে তাঁর বয়স, কোমর্বিডিটি ইত্যাদি কারণে প্রতিস্থাপন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকির। আর দ্বিতীয় পথ হল টাভি।

কিন্তু এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইলেই করা যায় না। মূল কারণ হল খরচ। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ভালভটির দাম ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। বিদেশি ভালভ হলে খরচ আরও বেশি। কলকাতার বেসরকারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে টাভি পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতে কমবেশি ২০ থেকে ৩০ লাখ খরচ। ভিন রাজ্যে এই পদ্ধতির খরচ আরও অনেকটাই বেশি। যদি সময়ে চিকিৎসা না হয় তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে যে কোনও সময় মৃত্যু হতে পারে রোগীর। কারণ ভালভটির কার্যকারিতা একেবারে কমে যাওয়ায় শরীরে বিশুদ্ধ রক্তের প্রবাহও কমে যায়। রোগী মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকেন।

দীপালি দেবীর ক্ষেত্রেও প্রথমে বেলুন দিয়ে ভালভ ফুলিয়ে লাভ হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অ্যাঞ্জিওগ্রাম বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মতোই টাভিতে কুচকি দিয়ে ক্যাথিটার ঢোকানো হয়। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে  পাঠানো হয় স্টেন্ট, টাভিতে পাঠানো হয় ভালভ। অবশেষে ৪০ মিনিটে শেষ হয় জটিল এই অস্ত্রোপচার। সুস্থ করে রোগিনীকে বাড়িতেও পাঠানো হয়েছে ।

(Feed Source: news18.com)