
বালাসোরের ট্রেন দুর্ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। নতুন করে উঠে আসছে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আর্থিক সুরক্ষার দিকটা। তবে অনেকেই জানেন না টিকিট কাটার সময়ই যাত্রীদের থেকে ৩৫ পয়সা করে নেয় ভারতীয় রেল। এর বিপরীতে ১০ লাখ টাকার বিমা কভার দেওয়া হয়।
রেলের টিকিট কাটলেই বিমা পাওয়া যায়, তা কিন্তু নয়। যাঁরা বার্থ বুক করছেন তাঁরাই টিকিটের সঙ্গে ৩৫ পয়সা দিয়ে বিমা পেতে পারেন। এখানে আরও একটা বিষয় আছে। সেটা হল, যে সমস্ত যাত্রীরা ভারতীয় রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন বা আইআরসিটিসি-র মাধ্যমে টিকিট কেনেন তাঁরাই এই বিমা পাওয়ার যোগ্য।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, বালাসোরে ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়া প্রায় এক হাজার যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৫৪ শতাংশ যাত্রী রেলের বিমা কভারেজ নিয়েছিলেন। যদি প্রত্যেকের থাকত তাহলে নিহত এবং আহতদের পরিবার যে বিশাল আর্থিক সুরক্ষা পেতেন বলাই বাহুল্য।
আইআরসিটিসি-র ভ্রমণ বিমা নেওয়ার পদ্ধতি: ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কেনার সময়, যাত্রীরা মাত্র ৩৫ পয়সা দিয়ে ভ্রমণ বিমা নিতে পারেন। হাসপাতালে ভর্তি, দাহকৃত দেহাবশেষ পরিবহন, স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা এবং মৃত্যু সহ একাধিক পরিস্থিতিকে এই বিমা কভার করে।
পরিশেষে: আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে যাত্রী প্রতি ৩৫ পয়সা ফি কার্যকর হয়েছে, সমস্ত কর সহ। ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স স্কিমের আওতায় কোন পরিস্থিতিতে কত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পাওয়া যায় দেখে নেওয়া যাক।
ক) ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু হলে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
খ) দুর্ঘটনার দিন থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থায়ী অক্ষমতার শিকার হলে বিমাকৃত ব্যক্তি ১০ লাখ টাকা দাবি করতে পারেন।
গ) রেলযাত্রার সময় দুর্ঘটনার কারণে শারীরিক আঘাত পেলে ১২ মাসের মধ্যে বিমাকৃত রাশির ৭৫ শতাংশ দেওয়া হয়। স্থায়ী আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে যেমন একটি অঙ্গ হারালে ৬৭ শতাংশ, দৃষ্টিশক্তি হারালে ৬৭ শতাংশ টাকা প্রদান করা হয়।
ঘ) বিমার মেয়াদের মধ্যে রেল যাত্রার সময় কোনও আঘাত পেলে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসার জন্যে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
ঙ) আইআরসিটিসি-র নিয়ম ও শর্তাবলীর পৃষ্ঠা অনুসারে, রেলওয়ে আইনের ১২৪ এবং ১২৪এ ধারা সহ ধারা ১২৩-এর অধীনে অপ্রীতিকর ঘটনায় মৃত্যু হলে বিমা কোম্পানি মৃতদেহ বাসস্থান বা শ্মশান বা সমাধিস্থল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্যে ১০ হাজার টাকা দেবে। এজন্যে কোনও প্রমাণ পেশ করতে হবে না।
