মোদি বিরোধিতায় রাহুলের মুখোমুখি মমতা, পটনায় ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বে নীতীশ-তেজস্

মোদি বিরোধিতায় রাহুলের মুখোমুখি মমতা, পটনায় ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বে নীতীশ-তেজস্

পটনা:  নজরে লোকসভা ভোট। বিজেপি বিরোধী জোটের বৈঠক। নীতীশ কুমার ও তেজস্বী যাদবের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিতে পটনায় পৌঁছলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি এবং মল্লিকার্জুন খড়্গে।

এদিন রাহুল বলেন, কংগ্রেস জোড়ার কাজ করছে৷ বিহারের মানুষ ভারত জোড়ো যাত্রায় পা মিলিয়েছে৷ কংগ্রেস মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলছে। কংগ্রেসের ডিএনএতে বিহার আছে। দেশে আদর্শগত লড়াই চলছে৷ ঘৃণার পরিবেশকে ভালবাসা দিয়ে সরাব। আমরা সবাই মিলে আজ এখানে বিজেপিকে হারাতে এসেছি। বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে।

তাঁদের স্বাগত জানাতে জয়প্রকাশ নারায়ণ বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ স্বয়ং। এরপর প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর সদাকত আশ্রমে যান রাহুল এবং খড়্গে। সেখানে বি আর আমবেদকরের একটি মূর্তির আবরণ উন্মোচন কর্মসূচিতে যোগ দেন দুই নেতা।

বৈঠক নীতীশের পক্ষ থেকে ডাকা হলেও বিরোধীদের একজোট করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, কেসিআরের দল বিআরএস, যারা কংগ্রেসের শরিক দল নয়, তারা তৃণমূলের সঙ্গেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তা আগেই জানিয়েছে। আর এমন অবস্থায় লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী শিবিরের সলতে পাকানোর ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে বৈঠক, নীতিশের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। বৈঠকে যে বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হবে তাতে কেন্দ্র সরকার বিরোধী শাসিত কোনও রাজ্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে সবাইকে একজাট হয়ে তার প্রতিবাদ করতে হবে, সংসদে বিরোধীদের একজোট হয়ে চলতে হবে, বৈঠকে যে সমস্ত ইস্যুকে সামনে রাখা হবে তাতে বিরোধীদের এক সুরে কথা বলতে হবে এবং আরেকটি বিষয় হল প্রথম বৈঠকে যেভাবে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা হাজির থাকবেন, সেই একভাবে পরবর্তীকালের বৈঠকগুলিতেও তাদেরই হাজির থাকতে হবে।

নজরে লোকসভা ভোট। বিজেপি বিরোধী জোটের বৈঠক। আজ, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে পটনায় নীতীশ কুমারের বাসভবনে হতে চলেছে বৈঠক।বৈঠকে যোগ দিতে গতকালই পটনায় এসে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বৈঠকে থাকবেন রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জূন খাড়গে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব, ডি রাজা, সীতারাম ইয়েচুরি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, কে সি বেণুগোপাল, মেহবুবা মুফতি, ফারুক আবদুল্লা, হেমন্ত সোরেন, উদ্ধব ঠাকরে-সহ একাধিক নেতারা।

নীতিশ কুমার-তেজস্বী যাদবের পৌরহিত্যে হবে বৈঠক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, ‘‘নীতীশজি যখন কলকাতায় এসেছিলেন, আমাদের বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম এই বৈঠক পটনাতেই হোক। কারণ, জয়প্রকাশজি আন্দোলন শুরু করেছিলেন পটনা থেকেই। ওটা একটা হিন্দি বেল্ট। আমিই নীতীশজিকে বলেছিলাম, সকলকে আমন্ত্রণ জানান। যার যার আসার আসবে।’’

(Feed Source: news18.com)