
টাইটানিক দেখতে গিয়ে সলিলসমাধি হয়ে যাওয়া ডুবোজাহাজ টাইটান থেকে মিলল মানুষের দেহাংশ। বুধবার এ খবর জানানো হয়েছে মার্কিন উপকূলরক্ষীবাহিনীর তরফে। তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে ‘‘মানবদেহের যে অবশিষ্টাংশ পাওয়া গিয়েছে সেগুলি মার্কিন বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করবেন।’’
অতলান্তিকের গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবাশেষ দেখতে গিয়ে এই ডুবোজাহাজের ভিতরে চিরঘুমে ঘুমিয়ে পড়লেন অভিযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার দূর নিয়ন্ত্রিত বা রিমোট কন্ট্রোল্ড একটি যান টাইটানিকের সূচালো অগ্রভাগ বা বো-এর থেকে ১৬০০ ফুট (৫০০ মিটার) দূরে একটি ডুবোজাহাজের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করে। মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী নিশ্চিত করে এটাই টাইটান ডুবোজাহাজের ভগ্নাবশেষ। কেন শেষ হয়ে গেল টাইটান? ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে মার্কিন উপকূলরক্ষীর তরফে জানানো হয়েছে দুর্ঘটনার কারণ ‘catastrophic implosion’৷ অর্থাৎ, বিপর্যয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে ডুবোজাহাজ টাইটান৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মহাসাগরের গভীরে জলস্তম্ভের চাপেই এই পরিণতি হয় টাইটানের৷
‘ওশনগেট’ অভিযাত্রী সংস্থার পরিচালিত ২১ ফুট বা ৬.৫ মিটারের ডুবোযানটি রবিবার অবতরণ করতে শুরু করে৷ কিন্তু দু’ ঘণ্টার মধ্যে সেটির সঙ্গে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ যাত্রা শুরুর সময় যানটিতে ৯৬ ঘণ্টার মতো অক্সিজেন মজুত ছিল৷ কিন্তু যাত্রা শুরু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডুবোজাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ সাগরের জলরাশিতে হারিয়ে যাওয়া সেই ডুবোযানের সওয়ারি ছিলেন বিশ্বের তিন ধনকুবের৷ তাঁদের মধ্যেই অন্যতম পাকিস্তানের শিল্পপতি শাহজাদা দাউদ৷ তিনি ও তাঁর ছেলে সুলেমান ছিলেন ওই জলযানে৷
আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা শাহজাদা দাউদের সংস্থা ‘এনগ্রো’ পাকিস্তানের নামী কর্পোরেট সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম৷ তাঁর বাবা হুসেইন দাউদও নিয়মিত থাকতেন ধনী পাকিস্তানি তালিকায়৷ এছাড়াও ওই যানে ছিলেন ব্রিটিশ ধনকুবের হ্যামিশ হার্ডিং৷ উড়ান শিল্পে তাঁর নাম ও সংস্থা প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠান৷ দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে তাঁর নামের পাশে উজ্জ্বল একাধিক গিনেস রেকর্ড৷ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যবাসী ৫৮ বছর বয়সি হার্ডিং এর আগে পাঁচ বছর ছিলেন বেঙ্গালুরুতেও৷ তাঁর সংস্থা দুবাই ও লন্ডনে বিমান কেনাবেচা করে৷ এই তিন যাত্রী ছাড়া ওই ডুবো যানে ছিলেন দুজন ক্রু সদস্য৷ তাঁদের মধ্যে পল অঁরি নার্গিওলেট একজন অভিজ্ঞ ডাইভার এবং টাইটানিক ধ্বংসাবশেষ বিশেষজ্ঞ৷ পঞ্চম ব্যক্তি হলেন ওই অভিযাত্রী সংস্থার সিইও স্টকটন রাশ৷
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর অতলান্তিক মহাসাগারে সমুদ্রতল থেকে ২ মাইলের বেশি গভীরে প্রবল জলচাপে চোখের নিমেষে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় ডুবোজাহাজ টাইটান। আকারে একটি এসইউভি-র সমান ওই ডুবোযানের পিষ্ট অবশিষ্টাংশ তোলা হয়েছে কানাডার পূর্ব উপকূলে। কঠিন অনুসন্ধান ও উদ্ধার পর্বের অবসান হল এর সঙ্গেই।
মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফে ক্যাপ্টেন জ্যাসন নোবাউর জানিয়েছেন, ডুবোজাহাজের উদ্ধার হওয়া অংশ পরীক্ষা করে দেখা হবে। জানার চেষ্টা করা হবে কেন এই পরিণতি হল টাইটানের। চেষ্টা করা হবে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে এড়ানো যায়।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল থেকে ৪০০ মাইল দূরে অতলান্তিকের প্রায় ৪ কিমি গভীরে রয়েছে টাইটানিকের ধ্বংসাবেশষ। টাইটানিকের বো অর্থাৎ তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ থেকে ১৬০০ ফিট বা ৫০০ মিটার দূরে মিলেছে টাইটানের ধ্বংসাবশেষ৷
