
সান নিউজ ডেস্ক : আজ রাজধানীতে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২৩ শর্তে সমাবেশ করতে উভয় দলকেই অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (১২ জুলাই) ২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে বিএনপি। সমাবেশে সরকার পতনের ‘এক দফা’ ঘোষণা করবে দলটি।
এ দিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এদিকে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ৪ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।
তার সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় এসেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার এশিয়া দপ্তরের উপসহকারী প্রশাসক অঞ্জলী কৌর।
গত রোববার (৯ জুলাই) থেকে ঢাকায় অবস্থান করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিষয়ক অনুসন্ধানী দল। তাদের সফরের মধ্যেই আজ ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করেছে দল দুটি।
রাজধানীতে এ সমাবেশকে উপলক্ষ্য করে বড় ধরনের শো-ডাউন করে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চায় বিএনপি।
এজন্য গত কয়েকদিন বিএনপির ঢাকা মহানগরীর নেতারা দফায়-দফায় মিটিং করেছেন। টানা কয়েকদিন সমাবেশে রাজধানীবাসীকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংও করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির ‘এক দফা’ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে শান্তি সমাবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। সমাবেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি তাদের কর্মসূচিগুলো জনগণকে দেখাতে চায় না, বিদেশিদের দেখাতে চায়। বিদেশিরা তাদের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান। তাই তাদের একটু শক্তি দেখানোর চেষ্টা করছে, যা একটি রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াত্বকে প্রকাশ করে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ১২ জুলাইয়ে পর চলমান আন্দোলন আরও উচ্চতর গতিতে, বেশি তীব্রতরভাবে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। সে লক্ষ্যে আমরা একটি যৌথ ঘোষণা দেব। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা যার-যার অবস্থান থেকে একই সময়ে একই ঘোষণা দেবে।
আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে সমাবেশ ঘিরে ডিএমপির ২৩ শর্ত :
১) এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়, স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
২) স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
৩) অনুমোদিত স্থানেই সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৪) নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে।
৫) স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের চারদিকে উন্নত রেজ্যুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
৬) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশে আগতদের হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে (ভদ্রোচিতভাবে) চেকিং করতে হবে।
৭) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৮) শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সীমিত আকারে মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। কোনোক্রমেই অনুমোদিত স্থানের বাইরে মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
৯) অনুমোদিত স্থানের বাইরে প্রজেক্টর স্থাপন করা যাবে না।
১০) অনুমোদিত স্থানের বাইরে, রাস্তায় বা ফুটপাতে কোথাও লোক সমবেত হওয়া যাবে না।
১১) আযান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১২) ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে, এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না।
১৩) সমাবেশের কার্যক্রম ব্যতীত মঞ্চকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
১৪) সমাবেশ শুরুর ২ ঘণ্টা পূর্বে লোকজন সমবেত হওয়ার জন্য আসতে পারবে।
১৫) অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৫ টার মধ্যে সমাবেশের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
১৬) কোনো অবস্থাতেই মূল সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
১৭) আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কার্যকলাপ করা যাবে না।
১৮) রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপ ও বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।
১৯) উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।
২০) কোনো ধরনের লাঠি-সোটা /ব্যানার, ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি, রড ব্যবহার করা যাবে না।
২১) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও কোনো বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।
২২) উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এ অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
২৩) জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এ অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
(Feed Source: sunnews24x7.com)
