Manipur মণিপুরঃ ভাইরাল ভিডিওতে উত্তাল মণিপুর

Manipur মণিপুরঃ ভাইরাল ভিডিওতে উত্তাল মণিপুর

 

Manipur Violence: মণিপুরে নারকীয় ‘গণধর্ষণ’ কান্ডে গ্রেফতার চার, রিপোর্ট চাইল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মণিপুরে (Manipur) দুই মহিলাকে নগ্ন করে হাঁটানোর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১ অভিযুক্তকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিস। বাকি অভিযুক্তদেরও শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে এবং চরম পদক্ষেপ করা হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minsiter Of India) নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) থেকে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী (CM N. Biren Singh)। তাঁদের সেই বার্তার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার হল আরও ৩ অভিযুক্ত। এখনও পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে টুইট করে জানিয়েছে মণিপুর পুলিস (Manipur Police)। অন্যদিকে, ন্যক্করজনক এই ঘটনায় মণিপুরের মুখ্য সচিব ও ডিজিপি-র কাছে রিপোর্ট চেয়ে নোটিশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। ৪ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনএইচআরসি। তদন্তের অগ্রগতি-সহ নির্যাতিতাদের শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

পুলিসের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার নাম হুইরাম হেরোদাস মেইতি। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর ভিত্তিতেই ৩২ বছর বয়সি ওই যুবককে চিহ্নিত করে থৌবাল জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো-তে ৩২ বছর বয়সি হেরোদাসকে সবুজ রঙের টি-শার্ট পরে দেখা গিয়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, হেরোদাস এই মহিলাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হেরোদাসকে গ্রেফতার করার কয়েক ঘণ্টা পর এদিন সন্ধ্যায় ওই ভিডিয়োর প্রেক্ষিতে আরও ১ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আরও ২ জনকে গ্রেফতার করার কথা জানাল মণিপুর পুলিশ। তাদের নাম অবশ্য এখনও প্রকাশ করেনি পুলিস। 

সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে মণিপুর নিয়ে মুখ খুলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না। আইন সর্বশক্তিমান। নিজের পথে আইন চলবে। মণিপুরের মেয়েদের সঙ্গে যা হয়েছে তা কখনও ক্ষমা করা যাবে না।” মোদী আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মোদী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর এরপরেই কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। 

মহিলাদের নগ্ন করে হাঁটানোর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। ওই ঘটনাতেই প্রতিবাদে সরব চূড়াচাঁদপুর। নারকীয় ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় জনতা। ঘটনায় ইতমধ্যে ৪ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন.বীরেন সিং। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘বুধবার রাতে আমরা মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি।  আরও যারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিস। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে বলেও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন ন্যক্করজনক ঘটনা যেন আমাদের সমাজের আর কোথাও না হয়।’ 

সূত্রের খবর ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি গত ৪ মে তোলা হয়েছিল। তার ঠিক আগের দিনই মণিপুরে দুই জনজাতি কুকি ও মেতেইদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভিডিয়োর দুই নির্যাতিতা কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত বলেই জানা গিয়েছে। রাজ্যের জনজাতি সংগঠন আইটিএলএফ-এর তরফে বলা হয়েছে, কুকি-জো সম্প্রদায়ের দুই মহিলার উপরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে মেতেইরা। গত ৪ মে কাংপোকপি জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই মহিলা কেঁদে কেঁদে কার্যত প্রাণের ভিক্ষা করেন। এরপরেও তাঁদের কথায় কান দেওয়া হয়নি। বরং সেই দুই মহিলার উপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছিল পুলিস। তদন্ত শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৪ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হল। তবে এতেও কিন্তু আসমুদ্র হিমাচলে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটুকু কমছে না। 

(Feed Source: zeenews.com) 

মণিপুর জ্বলছে, ধর্ষণ করে নগ্ন…! কেন সংসদে বলতে দিচ্ছেন না? ফুঁসে উঠলেন খাড়গে

এখনও অশান্ত মণিপুর। মণিপুরের ওই ভিডিয়ো কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে। গণধর্ষণের পরে নগ্ন অবস্থায় প্রকাশ্য়ে রাস্তায় দুই মহিলাকে হাঁটানোর অভিযোগ। এই ভিডিয়ো দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তবে এবার গোটা ঘটনা রাজ্যসভায় তোলার অনুমতি না মেলায় উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি জানিয়েছেন, রুল ২৬৭ নিয়ে বলার সুযোগ দেওয়া হল না। কাল আপনি বলবেন সময় মতো আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়নি। মণিপুর জ্বলছে। আর আমায় বলতে দিচ্ছেন না। মহিলারা ধর্ষিতা হচ্ছেন, নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হচ্ছে। আর মোদী নীরব।

এরপর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় জানিয়ে দেন, লিডার অফ দ্য় হাউজের সঙ্গে কথা বলেই এনিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এরপরই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই বিরোধীরা কার্যত হট্টগোল শুরু করে দেন সংসদে।

ধনখড় জানিয়ে দেন, মণিপুর ইস্যু নিয়ে কম সময় ধরে আলোচনার দাবি করছেন অনেকেই। সদস্যরা এই ইস্যুতে কথা বলতে চান। তবে এটা তিনটি পর্যায়ে হবে। প্রত্যেক সদস্যকে অল্প কথায় বলার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। তবে কবে ও কোন সময়ে হবে তার জন্য লিডার অফ দ্য হাউসের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

তবে মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল জানিয়েছিলেন, সরকার মণিপুর নিয়ে আলোচনার জন্য় তৈরি। এই নোটিশ গ্রহণ করতে কোনও সমস্যা নেই।

তবে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন এরপর কার্যত ফুঁসে ওঠেন। তিনি বলেন, স্যার আমি খুব দুঃখিত। আপনি খালি পদ্ধতির কথা বলেন। লিডার অফ দ্য হাউস কীভাবে আচমকা জেগে উঠবেন আর বলবেন আলোচনা করা হোক!

তৃণমূল এমপি ডেরেক ও ব্রায়েন জানিয়েছেন, কোনও ১৭৬ এর ব্যাপার নেই। আমরা চাই মণিপুর নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে মুখ খুলতে হবে। কার্যত বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই মণিপুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল সংসদ।
(Feed Source: hindustantimes.com)

দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন করেছেন, আজ সেই মণিপুর দেখে অসহায় বোধ হচ্ছে, মুখ খুললেন ইরম শর্মিলা

নয়াদিল্লি: অত্যচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রাণের সেই মণিপুরই জ্বলছে। শুধু জ্বলছেই নয়, মহিলাদের প্রতি পাশবিক অত্য়াচার চলছে সেখানে (Manipur Violence)। সম্প্রতি তার ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। সেই নিয়ে এবার মুখ খুললেন মণিপুরের প্রতিবাদী নেত্রী, ‘আয়রন লেডি’ ইরম শর্মিলা চানু (Irom Chanu Sharmila)। 

মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন ইরম চানু শর্মিলা

সংবাদমাধ্যমে কলম ধরেছেন শর্মিলা। তিনি লিখেছেন, ‘মণিপুরে প্রকাশ্যে দুই তরুণীর সঙ্গে যে নৃশংস আচরণ, লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, তার ভিডিও দেখলাম। আমি ভেঙে পড়েছি। যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে কোনও অজুহাতই খাটে না। এই ঘটনা গভীরে প্রোথিত সমস্যাগুলিকেই তুলে ধরে’।

শর্মিলা জানিয়েছেন, মণিপুরের সমাজজীবনে এবং প্রতিবাদ, আন্দোলনে মহিলারা গোড়া থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন, সে ইমা কিথেলের মহিলারা হোন বা মিয়েরা পেইবিজ অথবা ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা নুপি লাল। কিন্তু মণিপুরের বাস্তব ছবিটা আলাদা। রাজ্যের মহিলারা দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আসছেন লাগাতার। 

সংরক্ষণের প্রশ্নে গত তিন মাস ধরে জ্বলছে মণিপুর। সেই নিয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন শর্মিলা। এদিনও মণিপুরের বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করেন শর্মিলা। বলেন, “মণিপুরে বহু সম্প্রদায়ের, বহু সংস্কৃতির মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে পার্থক্যও সুষ্পষ্ট, গভীর। এভাবেই চলে আসছে বহু যুগ ধরে। মেইতেই এবং কুকি বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে দেখছি, দুই পক্ষের কথাবার্তা আলাদা। বিপরীতধর্মী মতামত তাঁদের। আজ এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতাই দায়ী। আজ বলে নয়, যুগ যুগ ধরে,  উত্তর-পূর্ব ভারত বিশেষ করে মণিপুর বরাবরই উপেক্ষিত। “

মণিপুরে ধর্ষণের পর নগ্ন করে ঘোরানো হল দুই তরুণীকে, চলল যৌন নিগ্রহ

শর্মিলা জানিয়েছেন, AFSPA-র বিরুদ্ধে যে অনশন, আন্দোলন করেছেন তিনি, তা মণিপুরের কোনও এক সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নয়, কুকি, মেইতেই, নাগা, সকলের জন্য। কিন্তু আজকের এই পরিস্থিতির জন্য তিনি অসহায় বোধ করছেন, জানালেন শর্মিলা। তিনি লেখেন, ‘এখন যা চলছে, তা দেখে অসহায় বোধ করছি আমি। এভাবে অপদস্থ করে, যৌন নিগ্রহ করে, কী অর্জন করতে চাইছিল অপরাধীরা?’
(Feed Source: abplive.com)

মণিপুরে নগ্ন হল মানবিকতা! সবাই চাইছেন অপরাধীর কঠোরতম শাস্তি

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুই মহিলাকে গণধর্ষণের পরে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয় গোটা গ্রাম, সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়(social media)। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মণিপুরের (Manipur Violence) মিতেই সম্প্রদায়ের দিকে। নির্যাতিতাদের পরিচয় প্রকাশ করার জন্যই অভিযুক্ত মেতেইরা এই ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে বলেই অভিযোগ। মণিপুরের নারকীয় এই ঘটনায় লজ্জিত, বিরক্ত, রাগে ফুঁসছে গোটা দেশ। অশান্ত মণিপুরের বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। শুধু রাজনৈতিক নেতারাই নয়, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বলিউডের তারকারাও।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অভিনেতা সোনু সুদ(Sonu Sood)। অভিনেতা টুইট করে লেখেন, ‘মণিপুরের ভিডিয়ো দেখে যে কেউ শিউরে উঠবে। মহিলাদের বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়নি, মানবিকতাকে ঘোরানো হয়েছে।’

শুধু সোনুই নয়, ভিডিয়ো দেখে রাগে ফুঁসছেন অক্ষয় কুমার(Akshay Kumar)। তিনি লেখেন, ‘মণিপুরের ভিডিয়ো দেখে রাগে কাঁপছি। বিরক্তি লাগছে। আশা রাখছি, ঐ অপরাধীরা যে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি পায় যাতে কেউ আর এরকম ভয়ানক কোনও কাণ্ড ঘটানোর সাহসও না করে’।

কিয়ারা আডবানী লেখেন, ‘মহিলাদের উপর অত্যাচারের এই ভিডিয়ো ভয়ংকর। আমি ভিতর থেকে শিউরে উঠেছি। আমি প্রার্থনা করি, ঐ মহিলারা তাড়াতাড়ি ন্যায়বিচার পাক। যারা অপরাধী তারা যেন বিরলতম শাস্তি পায়।’

রিচা চাড্ডা লেখেন, ‘লজ্জাজনক। ভয়ানক। আইনহীন।’

মণিপুরের নারকীয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কণিকা ধীলোঁ, উর্মিলা মাতন্ডকর ও রেণুকা সাহানি।

সূত্রের খবর ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি গত ৪ মে তোলা হয়েছিল। তার ঠিক আগের দিনই মণিপুরে দুই জনজাতি কুকি ও মেতেইদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভিডিয়োর দুই নির্যাতিতা কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত বলেই জানা গিয়েছে। রাজ্যের জনজাতি সংগঠন আইটিএলএফ-এর তরফে বলা হয়েছে, কুকি-জো সম্প্রদায়ের দুই মহিলার উপরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে মেতেইরা। গত ৪ মে কাংপোকপি জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই মহিলা কেঁদে কেঁদে কার্যত প্রাণের ভিক্ষা করেন। এরপরেও তাঁদের কথায় কান দেওয়া হয়নি। বরং সেই দুই মহিলার উপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিস। তদন্ত শুরু হয়েছে।

ট্যুইট করে রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা ও নিস্ক্রিয়তা মণিপুরকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে গেছে। মণিপুরে ভারতের আদর্শকে আক্রমণের এই ঘৃণ্য ছবি দেখে INDIA চুপ করে থাকবে না। মণিপুরের জনগণের পাশে রয়েছি। এখন শান্তি রক্ষাই একমাত্র পথ।’

বৃহস্পতিবার বাদল অধিবেশনের শুরুতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মণিপুরের ঘটনা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আরও বলেন, ‘মণিপুরের মেয়েদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা কখনও ক্ষমা করা যাবে না, দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না।’  প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই জানান, মনে বেদনা ও ক্ষোভ নিয়েই তিনি সকলের মাঝে গণতন্ত্রের এই মন্দিরের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। মণিপুরে যে ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তা যে কোনও সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। মোদী বলেন, ‘আমি সব মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন নিজেদের রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা আরও জোরদার করেন। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনদের সুরক্ষার জন্য কঠোরতম পদক্ষেপ নিন’।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং ট্যুইট করে জানিয়েছেন, ‘আমার ব্যথিত সেই দু’জন মহিলার জন্য যারা অসম্মানজনক এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছিলেন, যা গতকাল প্রকাশিত দুঃখজনক ভিডিয়োতে দেখানো হয়েছে। ভিডিয়োটি প্রকাশের পরপরই ঘটনার সুও-মটো কগনিজেন্স নেওয়ার পরে, মণিপুর পুলিস ব্যবস্থা নিতে শুরু করে এবং আজ সকালে প্রথম গ্রেফতার করে’। পরে আরেকজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ট্যুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। জানা গিয়েছে যে মণিপুরের ভয়ঙ্কর ভিডিয়োতে দুই নারীকে নগ্ন করে একদল পুরুষ প্যারেড করাচ্ছে। এই ভিডিয়ো বুধবার ভাইরাল হয়েছিল। এবং এরপরেই দেশজুড়ে ক্ষোভের ঢেউ তুলেছে এই ঘটনা।সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, সরকার সম্ভবত ‘আইন শৃঙ্খলার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে’ এমন ভিডিয়োর প্রচারের জন্য ট্যুইটারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেবে। কারণ এই জিনিস আইনে অনুমোদিত নয়।

প্রসঙ্গত, জাতি হিংসার ঘটনায় ১২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ রাজ্যের অভ্যন্তরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাঁরা এখন ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছে।এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। একজন সিনিয়র পুলিস অফিসার বলেছেন, ‘আমরা লোকদের শনাক্ত করেছি’। গণধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি ভয়াবহ হামলার প্রায় ১৫ দিন পর পুলিসের কাছে এসেছিলেন।
(Feed Source: zeenews.com)

মণিপুর ভাইরাল ভিডিও: চারজন গ্রেপ্তার, অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং বৃহস্পতিবার দু’জন মহিলার বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা এবং অমানবিক কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন যারা একটি হিংস্র জনতার দ্বারা নগ্ন হয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, এবং বলেছেন মণিপুর পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম গ্রেপ্তার করেছে।
বীরেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গিয়ে বলেছেন, “গতকাল যে মর্মান্তিক ভিডিওতে দেখানো হয়েছে যে দু’জন মহিলাকে গভীরভাবে অসম্মানজনক এবং অমানবিক কাজের শিকার করা হয়েছিল, তাদের কাছে আমার হৃদয় ছুঁয়েছে৷ ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ঘটনার স্ব-মোটো স্বীকৃতি নেওয়ার পরে, মণিপুর পুলিশ অ্যাকশনে নেমেছে এবং আজ সকালে প্রথম গ্রেপ্তার করেছে,” বীরেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বলেছেন৷
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের নাম হুইরেম হেরোদাস সিং, 32 বছর বয়সী, পেচি আওয়াং লেইকাইয়ের (এল) এইচ রাজেন সিংয়ের ছেলে, পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ অনুসারে, 4 মে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার নংপোক সেকমাই থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ এবং হত্যার একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত সমস্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
“বর্তমানে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং আমরা নিশ্চিত করব যে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা জানা যাক, আমাদের সমাজে এই ধরনের জঘন্য কাজের জন্য একেবারেই কোনও স্থান নেই,” বীরেন তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া মণিপুর সহিংসতার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে দুই মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করা হচ্ছে এবং একটি হিংস্র জনতার দ্বারা যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে। ঘটনাটি 4 মে মণিপুর জুড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ঘটেছিল বলে জানা গেছে। ভিডিওটি দেশজুড়ে জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
শেষ খবর লেখা পর্যন্ত প্রকাশ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
(Source: ifp.co.in)

মণিপুরে ৭৬ দিনের ১৪০ জনের ওপরে জীবনহানির সহিংসতার পর নীরবতা ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

একটি হিংসাত্মক জনতার দ্বারা দুই মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে যা দেশ জুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার মণিপুর সহিংসতার বিষয়ে তার নীরবতা ভেঙেছেন যা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

“মণিপুরের ঘটনা লজ্জাজনক… আমার হৃদয় বেদনা ও ক্রোধে পূর্ণ।” সংসদ ভবনে প্রাক অধিবেশন চলাকালে মোদি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বর্ষা অধিবেশন এবং চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত।
জাতিকে আশ্বস্ত করে যে আইন তার গতিপথ নেবে, মোদী বলেছিলেন যে দোষীদের রেহাই দেওয়া হবে না।
“আমি জাতিকে আশ্বাস দিচ্ছি, কোনো দোষীকে রেহাই দেওয়া হবে না। আইন তার সর্বশক্তি দিয়ে চলবে। মণিপুরের মেয়েদের যা হয়েছে তা কখনো ক্ষমা করা যাবে না,” বলেছেন মোদি।
এদিকে, রিপোর্ট অনুসারে, সরকার টুইটার এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে মণিপুরে নগ্ন হয়ে প্যারেড করা দুই মহিলার ভিডিও পুনরায় শেয়ার করার বিরুদ্ধে একটি আদেশ জারি করেছে।
ঘটনাটি 4 মে ঘটেছিল যখন মণিপুর জুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মামলার একজন অভিযুক্তকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, 4 মে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে নংপোক সেকমাই থানায় অপহরণ, গণধর্ষণ এবং হত্যার একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
(Source: ifp.co.in)

মণিপুর হরর ভিডিও: সুপ্রিম কোর্ট সরকারের পদক্ষেপের দাবি করেছে

মণিপুরে অশান্তির মধ্যে একটি ভিড়ের দ্বারা দু’জন মহিলাকে নগ্ন হয়ে যৌন নিপীড়ন/হিংসার শিকার হতে দেখা গেছে এমন ভয়ঙ্কর ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে, সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার এই ঘটনার স্বতঃপ্রণোদনা গ্রহণ করেছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করবে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি, ডঃ ডি ওয়াই চন্দ্রচূদ, বৃহস্পতিবার মণিপুরের গভীর উদ্বেগজনক ঘটনাটি মোকাবেলা করার জন্য ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল, ভেঙ্কটরামানি এবং ভারতের সলিসিটর জেনারেল, তুষার মেহতার উপস্থিতি চেয়েছিলেন।
আদালত ভিডিওটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে দুটি মহিলাকে নগ্নভাবে প্যারেড করা হচ্ছে, তাদের সাম্প্রদায়িক বিবাদের একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, লিঙ্গ সহিংসতার দিকে পরিচালিত করেছে এবং এটিকে সবচেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
“গতকাল (19/07/23) মণিপুরে কুচকাওয়াজ করা দুই মহিলার সম্পর্কে যে ভিডিওগুলি প্রকাশিত হয়েছে তাতে আমরা খুব গভীরভাবে বিরক্ত হয়েছি। এখন সময় এসেছে যে সরকার পদক্ষেপ নেয় এবং ব্যবস্থা নেয়,” আদালতের অধিবেশন চলাকালীন, সিজেআই বলেছেন
“সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সহিংসতা ঘটাতে মহিলাদেরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গভীরভাবে বিরক্তিকর। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে গুরুতর, ”সিজেআই বলেছেন।
সিজেআই সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, সতর্ক করে দিয়েছিল যে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে।
“আমরা সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটু সময় দেব অন্যথায় আমরা পদক্ষেপ নেব,” অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মে মাস থেকে কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের বিশদ জিজ্ঞাসা করার পরে সিজেআই সতর্ক করেছিলেন।
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তাও জিজ্ঞাসা করেছিলেন CJI।  সিজেআই আইন আধিকারিকদের বলেছিলেন যে মণিপুর সহিংসতা সংক্রান্ত চলমান ব্যাচের মামলা বিবেচনার জন্য আদালত এই বিষয়টি নোট করছে। আগামী শুক্রবার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
(Source: ifp.co.in)

মণিপুর নাগা বিধায়করা অশান্তি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, মহিলাদের অপমানজনক প্যারেডের নিন্দা করেছেন

মণিপুরের মন্ত্রী আওয়াংবো নিউমাই কর্তৃক আহ্বান করা নাগা আইনসভা ফোরাম (এনএলএফ) মণিপুরের জনগণকে রাজ্যের অবিরাম অস্থিরতার অবসান ঘটাতে হাত মেলাতে আহ্বান জানিয়েছে। NLF রাজ্যের 10 জন নাগা বিধায়কের প্রতিনিধিত্ব করে, বৃহস্পতিবার ইম্ফালে মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময়, মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি মণিপুরের সমস্ত বিভাগকে প্রভাবিত করছে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে, এবং রাজ্যের অভ্যন্তরে জনগণের জন্য একটি সম্মিলিত সমাধান খুঁজে বের করা অত্যাবশ্যক। টেবিল আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির সমান্তরাল আঁকতে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কখনই সমাধান আনতে পারে না।
এনএলএফ এবং সিএসও সহ সমস্ত নাগারা শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের স্তরে অক্লান্তভাবে কাজ করছে, তিনি বলেন, মণিপুরে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তিকে একত্রিত হওয়ার এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি পুনর্গঠনে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান নেই। আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।”
একটি মর্মান্তিক ভাইরাল ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় যা দেখায় যে দুই মহিলাকে একটি ভিড় দ্বারা নগ্ন করে প্যারেড করা হয়েছে, NLF এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
“অপরাধ মানুষের কল্পনার বাইরে। আমরা এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছি যা আমরা কখনো ভাবিনি আমরা আমাদের জীবদ্দশায় দেখব। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে আর কারো সাথে এমন নৃশংস ঘটনা আর না ঘটবে”।
এনএলএফ ভয়ঙ্কর অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে যাতে কোনও পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। ফোরামটি এই ঘটনায় যারা আহত হয়েছে তাদের প্রতি আন্তরিক সংহতি প্রকাশ করেছে এবং যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।
“যেকোনো সমস্যার সমাধান আলোচনা এবং বোঝাপড়ার মধ্যে নিহিত,” নিউমাই উপসংহারে পৌঁছেছেন, সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ আলোচনার জন্য এবং মণিপুরে চলমান সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন৷
(Source: ifp.co.in)

মণিপুর ভাইরাল ভিডিওঃ মণিপুরের আপামর জনসাধারণ কুকি মহিলাদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া মণিপুর সহিংসতার ভিডিওতে যৌন হেনস্থার পর যেভাবে দুই মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে মণিপুরের জনসাধারণ, বিভিন্ন নারী সংগঠন, বিভিন্ন সোসিয়েল সংস্থা এবং সমস্ত রাজনৈতিক পার্টি নিন্দা এবং ধিক্কার জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সবাই অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কঠোরতম শাস্তি দেবার জন্য দাবী তুলেছে। একজন মৈরা পাইবির প্রতিনিধি বলেছে, “আমরা না ঘুমিয়ে, রাত জেগে, কষ্ট সহ্য করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছি একমাত্র আমাদের সন্তানদের জন্যে, যাতে তারা নিরুপদ্রবে দিন কাটাতে পারে। কিন্তু সেই সন্তান যদি এইধরণের জঘন্য কাণ্ড করে তাহলে সেই সন্তানের শাস্তি আমরা চাই।” 

এদিকে মণিপুরের জনতা ঘটনার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার হওয়া হরিদাসের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভবত ‘আইন শৃঙ্খলার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে’ এমন ভিডিয়োর প্রচারের জন্য ট্যুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে। কারণ এই ব্যাপার ভারতীয় আইনে অনুমোদিত নয়। নন-কমপ্লায়েন্সের জন্য এলন মাস্কের মালিকানাধীন ট্যুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি আদেশ জারি করা হয়েছিল।
এই ঘটনার জন্যে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।