
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস (৯ অগস্ট)। তার পরেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অ্যারিজোনা প্রদেশের টুসনে একটি অনুষ্ঠানে পৃথিবীবিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের একটি অঞ্চল সেখানকার জনজাতিকেই উৎসর্গ করে অঞ্চলটিকে তাঁদের স্মারকভূমি হিসেবে ঘোষণাও করলেন তিনি। এই অঞ্চলকে এখানকার জনজাতিরা এখনও তাঁদের ‘বিচরণভূমি’ ও ‘পূর্বপুরুষদের পদচিহ্নভূমি’ বলে উল্লেখ করেন। ওই অঞ্চলে রয়েছে বেশ কিছু ইউরেনিয়াম খনি। কিন্তু এখন আর ওই অঞ্চল থেকে ইউরেনিয়াম খনন করা যাবে না।
প্রায় ১০ লক্ষ একরের জমি। সেখানে এই আদিম জনজাতিরা এবার থেকে নিজেদের মতো থাকতে পারবেন। এখানে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় আচরণ পালন করতে পারবেন, এই এলাকার গাছপালা থেকে তৈরি করতে পারবেন ওষুধ। এখানে এমন কিছু গাছ আছে, যা শুধু ওই অঞ্চলেই পাওয়া যায়। ফলে সেগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নআত্তি জরুরি। আর এসবই তাঁরা রেখে যেতে পারবেন তাঁদের উত্তরপ্রজন্মের জন্য।
ওই এলাকায় বসবাসকারী কিছু জনজাতি একটি জোট তৈরি করেছিলেন। সেই জোটের বহু প্রচেষ্টার ফলেই এ সংক্রান্ত বিলটি পাশ হল। ওই অঞ্চলের প্রত্যন্তে বাস করে একদল আদিম জনজাতির মানুষ। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা এই আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের প্রস্তাব পাশ করে। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বসবাসকারী আদিম জনজাতি বা আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষদের অধিকার রক্ষা করতে দিবসটি পালন করা হয়। বাইডেন যেন সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন।
প্রসঙ্গত বাইডেনের ক্যাবিনেটের একমাত্র ও প্রথম নেটিভ আমেরিকান প্রতিনিধি হলেন ডেব হ্যাল্যান্ড। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওই অঞ্চলের জনজাতিদের জোটটি তাঁকে জানিয়েছিল, কী ভাবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষণা করার ফলে তাঁদের এবং আরও বহু জনজাতিকে নিজস্ব বাসভূমি থেকে উৎখাত হতে হয়েছে। এরপরই টনক নড়ে মার্কিন প্রশাসনের।
ভূমিসন্তান বা আদি বাসিন্দাদের ভূমিচ্যুত করার ইতিহাস সভ্যতায় নতুন কিছু নয়। ইউরোপীয় উপনিবেশের ফলে শতকের পর শতক ধরে পৃথিবীর সব দেশেই ভূমিসন্তানেরা নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। শুধু উপনিবেশই নয়, স্বাধীন দেশেও এই ধরনের বঞ্চনার ঘটনা ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা, ভারত– বিভিন্ন দেশের ইতিহাস সেই সাক্ষ্য বহন করে। সাম্প্রতিককালে অবশ্য বিভিন্ন রাষ্ট্র এই ধরনের আচরণ থেকে সরে আসছে। বাইডেনের এই আচরণ সেই মনোভাবেরই পরিচায়ক।
(Feed Source: zeenews.com)
