এলিফ্যান্ট করিডর নিয়ে কাজের প্রশংসা! পুরস্কার লাভ উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের

এলিফ্যান্ট করিডর নিয়ে কাজের  প্রশংসা! পুরস্কার লাভ উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ‘ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম ফর সেভিং এলিফেন্ট লাইভস’-এর সঙ্গে নিজেদের এন্ট্রির দ্বারা মাইক্রো প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার-এর জন্য পিএমআই সাউথ এশিয়া পুরস্কার লাভ করল।  চেন্নাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই পুরস্কার লাভ করে। ২০০৯ সালে এর সূচনার সময় থেকে রেলমন্ত্রকের অধীনে কোনও জোনাল রেলওয়ে প্রথমবারের জন্য এই পুরস্কার লাভ করতে সক্ষম হয়। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড অথবা বিইএল রানার্স আপ পুরস্কার লাভ করে। ২০২২ সালে মাইক্রো প্রজেক্ট পুরস্কার লাভ করেছিল আইবিএম।

প্রত্যেক বছর আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে নিজেদের উদ্ভাবন প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সংস্থা অংশগ্রহণ করে। এই অঞ্চলে প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কমিউনিটির জন্য স্বীকৃতি হিসেবে পিএমআই সাউথ এশিয়া পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম (আইডিএস) হল হাতি রক্ষা করা ও ট্রেন পরিচালনার গতিশীলতা উন্নত করার জন্য একটি  ইকো-সাস্টেইনেবল সলিউশন। এই সিস্টেমটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স (এআই) ভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলিতে বন্যপ্রাণীর চলাচল শনাক্ত করতে এবং কন্ট্রোল অফিস, স্টেশন মাস্টার, গেটম্যান ও লোকো পাইলটদের সতর্ক করার জন্য সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হবে বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবার। এটি ফাইবার অপটিক ভিত্তিক অ্যাকোস্টিক সিস্টেম ব্যবহার করে, যা ট্র্যাকে হাতির উপস্থিতি সময় মতে অনুধাবন করতে ডায়ালাইসিস স্ক্যাটারিং ফেনোমেনন হিসেবে কাজ করে।

এআই ভিত্তিক সফ্টওয়্যারটি মূল ইউনিটের উভয় পাশে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত অ-স্বাভাবিক চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে পারে (অর্থাৎ মোট ৮০ কিমি প্রসারিত)। অতিরিক্তভাবে রেল ফ্র্যাকচার, রেলপথে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে এবং রেলওয়ে ট্র্যাকের নিকটে বেআইনি খনন, ট্র্যাকের নিকটে ভূমিধস ইত্যাদির জন্য দুর্যোগ প্রশমন সম্পর্কে সতর্ক করতে এই আইডিএস সাহায্য করে।

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অন্তর্গত ডুয়ার্স অঞ্চলের চালসা-হাসিমারা সেকশন এবং অসমের লামডিং ডিভিশনের অন্তর্গত লংকা-হাওয়াইপুর সেকশনে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের দ্বারা গৃহীত আইডিএস পাইলট প্রজেক্টের ১০০ শতাংশ সাফল্যের পর এখন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য সবগুলি এলিফেন্ট করিডোরে পর্যায়ক্রমিকভাবে এটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যার জন্য ইতিমধ্যেই ৭৭ কোটি টাকা অনুমোদন জানানো হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ট্রেনের ধাক্কায় রেল ট্র্যাকে প্রবেশকারী হাতিদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই পাইলট প্রোজেক্টটি ইতিমধ্যে অত্যন্ত সাফল্য লাভ করেছে। ভুবনেশ্বর স্থিত ইস্ট কোস্ট রেলওয়েও (ইসিওআর) নিজেদের অধিক্ষেত্রের অধীনে হাতির জীবন রক্ষা করতে সফলভাবে এই মডেল গ্রহণ করেছে।

(Feed Source: news18.com)