
সব শিক্ষার্থীর মনেই ‘বড়’ হওয়ার স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে চলে কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়। গোরখপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরভ ত্রিপাঠীর গল্পটাও একই। চমক শুধু সেই স্বপ্নের সঙ্গে সূর্য মিশনের স্বপ্ন মিলেমিশে যাওয়ায়।
সৌরভ সাধারণ পরিবারের ছেলে। গোরখপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আগামীদিনে আদিত্য এল১ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে গবেষণা করবেন তিনি। স্কুলজীবনের পাঠ চুকিয়ে ২০১৭ সালে গোরখপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি-তে ভর্তি হন সৌরভ। তারপর ২ বছরের এমএসসি করেন। বসেন জেইএসটি-তে (জয়েন্ট এন্ট্রান্স সায়েন্স টেস্ট)। এখন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পড়াশোনা করছেন।
পড়াশোনার পথ সুগম ছিল না মোটেই। বরাবর আর্থিক সঙ্কট তাড়া করে বেরিয়েছে। সে স্কুল হোক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়। গোরখপুরের খাজনি এলাকার সারিয়া তিওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ বলেন, ‘বাবা কমলেশ তিওয়ারি বেসরকারি চাকরি করেন। ভাই-বোনদের অনেক কষ্টে পড়াশোনা করিয়েছেন’। তবে সৌরভ মেধাবী। জেইএসটি-তে ১৬৯ র্যাঙ্ক করেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহ সৌরভের। মহাবিশ্বের আচরণ সম্পর্কে সদা উৎসুক। সৌরভের সেই স্বপ্নই পূরণ হতে চলেছে। সূর্যের পাড়ি দিয়েছে ইসরোর আদিত্য এল১ যান। তার সংগ্রহ করা তথ্য নিয়েই গবেষণা করার সুযোগ পেয়েছেন সৌরভ।
মা-বাবা এবং শিক্ষকদের জন্যই তিনি এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন সৌরভ। তাঁদের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। বর্তমানে তিনি মহাকাশ ভিত্তিক সোলার অবজারভেটরি মিশনের সঙ্গে যুক্ত। সোলার ফিজিক্সের উপর গবেষণার জন্য পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। এখানেই অর্থাৎ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এই আদিত্য এল১-এর একটি পেলোড ডিজাইন করা হয়েছে। যার নাম ‘VLEC’।
সূর্যে সংঘটিত বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন সৌর শক্তি, সৌর জানালা ইত্যাদি সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করতে এই পেলোড ব্যবহৃত হবে। এই সমস্ত জিনিস যদি কক্ষপথে সঠিকভাবে সেট করা হয়, তবে এক বছর পিএইচডি করার পরে, সৌরভ এর উপর গবেষণা করবেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্স সায়েন্স টেস্টের পর সারাদেশ থেকে ৮০ জনের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল, যার পরে সৌরভকে এই বিশেষ মিশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
