
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্যের এক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি। গাজিয়াবাদের এমন কাণ্ডে তোলপাড় যোগীরাজ্য। ভুয়ো বিয়ে দিয়েই দালালরা হাতিয়ে নিয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। কমপক্ষে ৩৫০০ যুগলের ভুয়ো বিয়ে দেখানো হয়েছে সরকারের খাতায়।
উত্তর প্রদেশ সরকারের একটি প্রকল্প রয়েছে যেটির নাম ‘কন্যা বিবাহ যোজনা’। ওই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের শ্রমমন্ত্রকে নথিভূক্ত শ্রমিকদের বিয়ের জন্য ৮২ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। ওই টাকা পান আর্থিকভাবে অসচ্ছল শ্রমিকরা। তবে তাদের অন্তত এক বছর সরাকারি কাজে যুক্ত থাকতে হবে। এরকম একটি প্রকল্পকেই হাতিয়ার করা হয়েছে গাজিয়াবাদে।
ওই প্রকল্পের আওতায় ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বিয়ের জন্য অনুদান হিসেবে। পাত্র ও পাত্রীকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় পোশাক কেনার জন্য। আর ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয় অন্যান্য খাতে। ওই প্রকল্পকেই হাতিয়ার করেছে দালালরা। তারা ভুয়ো পাত্র-পাত্রী ঠিক করে তাদের বিয়ে দিয়েছে ও তার সরকারের খাতায় দেখিয়েছে। যুবক-যুবতীদের বিয়েতে রাজি করার জন্য তাদের দেওয়া হয়েছে ১০-২০ হাজার টাকা। বাকী টাকা তুলে নেওয়ার জন্য ওইসব যুবক যুবতীদের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাতেই ঢুকেছে কন্যা বিবাহ যোজনার টাকা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এভাবে ৩৫০০ যুগলের বিয়ে দেওয়া হয়েছে একেবারেই জালিয়াতি করে। এভাবেই সরকারের ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। পাত্র-পাত্রী একে অপরকে চেনে না, কোথাও পাত্র-পাত্রী দুজনেই ভুয়ো, কোথাও পাত্র-পাত্রীর অস্তিত্বই নেই।
২০২২ সালের নভেম্বরে এরকমই বহ বিয়ে হয়। কিন্তু টাকা নিয়ে দালাল ও পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। তার পরেই ওইসব পাত্রপাত্রী পুলিসে এফআইআর করে। আর তখনই এমন জালিয়াতির বিষয়টি সামনে চলে আসে। পুলিস তদন্ত করলেও তা নিয়ে এতদিন কোনও উচ্চবাচ্চ ছিল না। কিন্তু এই গোলমালে ঢুকে পড়ে ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন। তারাই এনিয়ে তদন্ত শুরু করে। তাতেই এই জালিয়াতির শিকড় বেরিয়ে পড়ে। তাদে দাবি গাজিয়াবাদ ছাড়াও রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এমন জালিয়াতি হয়েছে। এনিয়ে উত্তর প্রদেশ লোকায়ুক্তের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ভারীয় কিষাণ ইউনিয়ন। এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে লোকায়ুক্ত।
(Feed Source: zeenews.com)
