
কী ঘটেছিল?
ইহুদিদের জন্য সেটিও ছিল পরবের দিন। তাঁদের বিশ্বাস, Yom Kippur এমন একটি দিন, যখন সমস্ত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করা দরকার। সে বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। ইজরায়েলের মানুষ ধর্মীয় আচার পালন করছিলেন। হঠাৎ, দুপুরের দিকে হামলা শুরু। এক দিকে মিশর, অন্য দিক থেকে সিরিয়া। আচমকা আক্রমণে ইজরায়েল কিছুটা দিশাহারা হয়ে যায়। সে দেশের তৎকালীন প্রধামমন্ত্রী গোল্ডা মেয়র আমেরিকার কাছে সাহায্য চান। প্রথম দিকে তা দিতে রাজি হয়নি আমেরিকার। যদিও, সিরিয়া ও মিশরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল রাশিয়া। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আপৎকালীন সাহায্যের বাড়িয়ে দেন। পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। তবে গোলান হাইটসের দিকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় ইজরায়েল। তারা যে অপরাজেয় নয় বা তারা যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির ঊর্ধ্বে, সে কথা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যায় সে বার। যদিও পরে প্রশ্ন উঠেছিল, ‘মোসাদ’-এর অন্যতম সেরা গুপ্তচর ‘দ্য অ্যাঞ্জেল’ ওরফে আশরাফ মারওয়ান এই হামলার খবর আগেভাগে দেওয়া সত্ত্বেও কেন সতর্ক হয়নি ইজরায়েল? হালে হামাসের হামলার পরও তেল আভিভের বিরুদ্ধে ‘ইনটেলিজেন্স ফেলিওর’-এর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, আরও অনেক ব্যাপারে এই যুদ্ধের সঙ্গে ‘৭৩ সালের ‘Yom Kippur war’-এর মিল পাচ্ছেন অনেকে।
কোথায় মিল?
সে বারের মতো এই বারও হামলার জন্য অক্টোবর মাসটিকেই বেছে নিয়েছে প্যালেস্তাইনি জঙ্গি সংগঠন ‘হামাস’। শুধু তাই নয়। শনিবার ভোরে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে হামাসের রকেট ইজরায়েলে আছড়ে পড়ছে, তখনও কিন্তু ‘Simchat Torah’ নামে একটি পরবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সেখানকার বাসিন্দারা। আসলে ‘Torah’ বা হিব্রু বাইবেলের প্রথম পাঁচটি বই। ইহুদিদের বিশ্বাস, ‘Torah’ অধ্যয়নের বার্ষিক পর্বের শেষ দিন হল ‘Simchat Torah’। সে দিক থেকে এই দিনটিও তাঁদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। আর ঠিক সেই দিনটিকেই হামলার জন্য বেছে নিয়েছে হামাস।
কিন্তু ‘৭৩ সালের যুদ্ধের পরিণতি এবারও হবে কিনা, তা বলবে সময়।
(Feed Source: abplive.com)
