
কলকাতা: ভারতের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির বিভিন্ন অংশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী স্থির করেছিলেন। তার সঙ্গে সংগতি রেখে আজ শিলচর পর্যন্ত একটি ট্রেনের পরিষেবা এবং আরেকটি ট্রেনের পরিষেবা আগরতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি দুটি নতুন ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হয়েছে।
অসমের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রোফেসর (ড.) মানিক সাহা যথাক্রমে গুয়াহাটি ও আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন।
রেলওয়ে, যোগাযোগ এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রার সূচনার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন। বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রার সূচনার অনুষ্ঠানে সাংসদ, বিধায়ক, ডিভিশনের বরিষ্ঠ রেলওয়ে আধিকারিকরা এবং অন্যান্য রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বরাক উপত্যকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে অসমের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটি স্টেশন থেকে ১৫৬১৭/১৫৬১৮নং. (গুয়াহাটি-দুল্লভছড়া-গুয়াহাটি) এক্সপ্রেস ট্রেনটির সূচনা করেন।
শ্রী কৃপানাথ মল্ল, সাংসদ (লোকসভা) এবং শ্রী বিজয় মালাকার, বিধায়ক/রাতাবাড়ি দুল্লভছড়া স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী চেতন কুমার শ্রীবাস্তবের পাশাপাশি মুখ্য কার্যালয়ের বরিষ্ঠ রেলওয়ে আধিকারিকরা গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন।
ত্রি-সাপ্তাহিক ১৫৬১৭/১৫৬১৮নং. (গুয়াহাটি-দুল্লভছড়া-গুয়াহাটি) এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবা ২১-১০-২০২৩ তারিখ থেকে সপ্তাহে তিন দিন অর্থাৎ সোম, বুধ ও শনিবার গুয়াহাটি থেকে ২২.০০ ঘণ্টায় শুরু হবে এবং পরের দিন ০৯.৪৫ ঘণ্টায় দুল্লভছড়া পৌঁছবে।
ফেরত যাত্রার সময় ট্রেনটি দুল্লভছড়া থেকে মঙ্গল, বৃহস্পতি ও রবিবার ১১.১০ ঘণ্টায় রওনা দিবে এবং একই দিনে ২৩.১৫ ঘণ্টায় গুয়াহাটি পৌঁছবে। এই নতুন ট্রেনটি অসমের রাজধানী গুয়াহাটি ও মিজোরাম সীমান্তের দুল্লভছড়ার মধ্যে প্রথম প্রত্যক্ষ ট্রেন পরিষেবা। অসম ও মিজোরামের সীমান্ত অঞ্চলগুলির জনগণের ভ্রমণ সহজ করা জন্য এই ট্রেন পরিষেবাটি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রদান করবে।
ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রোফসের (ড.) মানিক সাহা আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১২৫১৯/১২৫২০নং. (লোকমান্য তিলক টার্মিনাস-কামাখ্যা-লোকমান্য তিলক টার্মিনাস) এক্সপ্রেসটির আগরতলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত পরিষেবা ও ০৭৬৮৮/০৭৬৮৭নং. (আগরতলা-সাব্রুম-আগরতলা) দৈনিক ডেমু স্পেশাল ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবার সূচনা করেন।
সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন বিভাগের মাননীয় কেন্দ্রীয় রাজ্যমন্ত্রী কুমারী প্রতিমা ভৌমিক, ত্রিপুরা সরকারের পরিবহণ, পর্যটন, খাদ্য, গণ বণ্টন ও উপভোক্তা সংক্রান্ত মন্ত্রী শ্রী সুশান্ত চৌধুরী, এবং ত্রিপুরার বাধারঘাটের বিধায়ক শ্রীমতি মীনারানি সরকারও এই সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১২৫১৯/১২৫২০নং. (লোকমান্য তিলক টার্মিনাস-আগরতলা-লোকমান্য তিলক টার্মিনাস) এক্সপ্রেস ট্রেনটির সম্প্রসারিত পরিষেবার নিয়মিত যাত্রা ২২-১০-২০২৩, রবিবার লোকমান্য তিলক (টি) থেকে ০৭.৫০ ঘণ্টায় শুরু হবে এবং মঙ্গলবার ১৭.৫০ ঘণ্টায় আগরতলা পৌঁছবে।
ফেরত যাত্রার সময় ট্রেনটি আগরতলা থেকে বৃহস্পতিবার ০৭.২০ ঘণ্টায় রওনা দিবে এবং শনিবার ১৬.১৫ ঘণ্টায় লোকমান্য তিলক (টি) পৌঁছবে। এই ট্রেনটির সম্প্রসারিত পরিষেবা ত্রিপুরার রাজধানীকে ভারতের পশ্চিম অংশ তথা মুম্বাইয়ের সাথে সংযুক্ত করবে। ০৭৬৮৮/০৭৬৮৭নং. (আগরতলা-সাব্রুম-আগরতলা) দৈনিক ডেমু স্পেশাল ট্রেনের নিয়মিত পরিষেবা ২০-১০-২০২৩ থেকে শুরু হবে।
ট্রেনটি আগরতলা থেকে ১৩.৪০ ঘণ্টায় রওনা দিয়ে সাব্রুম পৌঁছবে ১৫.৫৫ ঘণ্টায়। ফেরত যাত্রার সময় ট্রেনটি সাব্রুম থেকে ১৬.২০ ঘণ্টায় রওনা দিয়ে আগরতলা পৌঁছবে ১৮.৫০ ঘণ্টায়। ডেমু ট্রেন চালু করার ফলে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের জন্য রাজ্য রাজধানী আগরতলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধি হবে।
ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে একটি এসকেলেটর উদ্বোধন করা হয়, যা বিদ্যমান যাত্রীদের সুবিধা আরও বৃদ্ধি করবে। এই নবনির্মিত এসকেলেটরটি প্রবীণ ব্যক্তি ও রোগীদের ট্রেনে ওঠা-নামা করার সময় ও প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করার সময় সাহায্য করবে।
১২৫১৪/১২৫১৩নং. (গুয়াহাটি-সেকেন্দ্রাবাদ-গুয়াহাটি) এক্সপ্রেস ট্রেনটি শিলচর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়, যার সূচনা হয় শিলচর রেলওয়ে স্টেশন থেকে। ১২৫১৩/১২৫১৪নং. (সেকেন্দ্রাবাদ-শিলচর-সেকেন্দ্রাবাদ) এক্সপ্রেস ট্রেনটির সম্প্রসারিত পরিষেবার যাত্রা ২১-১০-২০২৩, শনিবার সেকেন্দ্রাবাদ থেকে ১৬.৩৫ ঘণ্টায় শুরু হবে এবং সোমবার ২৩.২০ ঘণ্টায় শিলচর পৌঁছবে।
ফেরত যাত্রার সময় ট্রেনটি শিলচর থেকে বুধবার ১৯.৫০ ঘণ্টায় রওনা দিবে এবং শনিবার ০৩.৩৫ ঘণ্টায় সেকেন্দ্রাবাদ পৌঁছবে। এই নতুন ট্রেনটি বরাক উপত্যকা (শিলচর) ও দক্ষিণের শহর সেকেন্দ্রাবাদের সাথে প্রথম প্রত্যক্ষ ট্রেন।
