
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের তেজগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন। তিনটি বগি পুড়ে ছাই। এখনওপর্যন্ত পাওয়া খবর অনুয়ায়ী মহিলা ও শিশু সহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে নেত্রকনা থেকে ছেড়ে এসে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস থামে তেজগাঁওয়ে। তার পরই ট্রেন আগুন লক্ষ করেন স্টেশনে থাকা লোকজন।
তেজগাঁওয় শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ রেলের যে স্টেশন রয়েছে সেখানেই দাঁড়িয়েছিল মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনেই আচমকা আগুন লেগে যায়। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পড়ে ৩টি বগিতে। ভেতরে সব চেয়ার, বাঙ্ক পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘ভোর পাঁচটা নাগাদ স্টেশনে আসি। এসে দেখি ট্রেনে আগুন লেগে গিয়েছে। মোট ৪টি মরদেহ আমি দেখেছি। দেখলাম ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে।’ কীভাবে আগুন লেগেছে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সংবাদমাধ্যমে বলেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও নাশকতা রেল চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে যোগাযোগ ব্যবস্থায় য়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে তা থেকে বাইরে ছিল রেল। এবার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা করা হচ্ছে। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও তার সহযোগী দলগুলি যে রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তার পর থেকেই রেলের উপরে হামলা বাড়ছে।
এদিন সকাল সাতটার দিকে ওই ৪ মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। মৃতদেহ মধ্যে এখনওপর্যন্ত ২ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। এরা হলেন নাদিরা আক্তার(৩৫) ও তাঁর ৩ বছরের ছেলে ইয়াসিন। বাকী দুজনের আনুমানিক বয়স ৩০-৪০ বছরের মধ্যে।
নাদিরার ভাই হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমে বলেন, তেজগাঁও স্টেশনে কয়েকজন যাত্রী নেমে যান। পরে ট্রেন চলতে শুরু করতেই একটি কামরার পেছনের দিকে আগুন দেখা যায়। মূহূর্তেই সেই আগুন গোটা বগিচে ছড়িয়ে পড়ে। চলন্ত ট্রেন থেকে নাদিরার বড়ভাই ফাহিমকে নিয়ে লাফ দিয়ে নেমে পড়ি। কিন্তু ভেতরে আটকে পড়ে নাদিরা ও ইয়াসিন। তাদের আর নামিয়ে আনতে পারিনি।
(Feed Source: zeenews.com)
