
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গুলি চলেছে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। মৃতদের মধ্যে বন্দুকবাজও রয়েছে। এছাড়া ২৪ জন জখম হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। চেক পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। চেক রিপাবলিকের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিস জানিয়েছে, বন্দুকবাজ বছর ২৪-এর ডেভিড কোজাক ইতিহাসের ছাত্র। ডেভিড কোজাক প্রাগের বাইরে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে বাস করত এবং চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ে পোলিশ ইতিহাসে মাস্টার্স ডিগ্রিও অর্জন করছিল। প্রাগের পুলিস প্রধান মার্টিন ভন্ড্রাসেক জানিয়েছেন, ডেভিড অত্যন্ত ভালো ছাত্র। সে আইনত বেশ কয়েকটি বন্দুকের মালিক ছিল এবং ঘটনার সময় সে সশস্ত্রও ছিল। পুলিস প্রধান বলেন, তিনি যা করেছে তা ‘সুচিন্তিতভাবে করেছে যা ভয়ঙ্কর কাজ’।
ডেভিড কোজাক প্রাগে হত্যার আগে নিকটবর্তী শহর হিউস্টনে তার বাবাকেও হত্যা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিসের দাবি, তাঁর কোনও সহযোগী ছিল না। সে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে একটি স্কুলের শুটিংয়ের পরিকল্পনা করার কথা বলেছিল। টেলিগ্রামকে জীবন ডায়েরির মতো ব্যবহার করে সে লেখে, “আমি স্কুলে শুট করতে চাই এবং সম্ভবত আত্মহত্যাও করব। সারাক্ষণ খুনের কথাই ভাবতাম, ভবিষ্যতে পাগল হয়ে যাব মনে হয়।”
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গুলি চালানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ঘটনার পরেই ওই জান পালাখ স্কোয়ারে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। গোটা এলাকা সিল করে দেওয়া হয়। আশপাশের রাস্তা থেকেও মানুষজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বন্দুকবাজকে বহুতলের বারান্দায় বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। তবে কী কারণে ওই হামলা চালানো হয়, বড় কোনও ষড়যন্ত্র আছে কি না, ওই ব্যক্তির পিছনে বড় কোনও চক্র বা গোষ্ঠী আছে নাকি কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনও যোগ আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
