বাংলাদেশ: আলুর বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা

বাংলাদেশ: আলুর বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা

হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর: রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় আলুর প্রত্যাশিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। জমিতেই চড়া দাম পেয়ে খুশি বেজায় খুশি আলু চাষিরা। আলু তুলেই লাভের মুখ দেখতে পাওয়ায় স্বস্তির ঢেকুর তুলছেন তারা।

ভালো দাম ও হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির আশংকায় জমিতেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন চাষিরা, এমনটাই জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তবে হিমাগারে রাখার পর শেষ পর্যন্ত আলুর দাম কেমন হবে, তা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য আলু চাষ করতেন চাষিরা। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সে সময় বিপাকে পড়তেন তারা। তবে বর্তমানে সেই সমস্যা নেই। এছাড়া লোকসানের শঙ্কাও নেই। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনই দামও ভাল পাচ্ছেন চাষিরা।

বর্তমানে রংপুর নগরীসহ বিভাগের ৮ জেলার আলু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে বিদেশে। আলুর বর্তমানে বড় বাজার তৈরি হয়েছে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও নেপালসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। আরও কয়েকটি দেশে রফতানির প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে রংপুর নগরীর তামপাট, দর্শনা, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, কলাবাড়ি, তপোধন, পশুরাম ও কেরানিরহাটসহ সদরের জানকি ধাপেরহাট, পালিচড়া, পানবাড়ি, রামজীবন, শ্যামপুর, চন্দনপাট ও তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুরের পীরগাছার ছাওলা, শিবদেব, গাবুড়ার চর, কাউনিয়ার হারাগাছ, টেপামধুপুর, আজমখা, বুড়িরহাট, ভায়ারহাট, গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন চর ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নারী-পুরুষ ও শিশুসহ দল বেঁধে মনের আনন্দে জমি থেকে আলু তুলছেন। পাইকাররা ক্ষেত থেকে আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার স্থানীয় বাজারে কৃষক নিজে পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই আলু বিক্রি করছেন।

চাষিরা বলছেন, চলতি বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে। আলুর স্বাস্থ্য, মান ও আকার অনেক ভালো। তবে কিছু স্থানে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও চাহিদা ভালো।

জমিতেই রকমভেদে প্রতি কেজি আলু ২৮-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যাশিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দাম পাওয়ায় এবার খুশি রংপুর অঞ্চলের আলু চাষিরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চলতি বছর ১ লাখ ৬০২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ৩২৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে স্থানীয় ও উফশী জাতের আলুর চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলসহ রংপুর জেলাতেই আলু চাষ হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩৫৪ টন। তবে আশানুরূপ দাম ও চাহিদা থাকায় অনেক চাষি পরিপক্ক হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে আলু বিক্রি করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ জমির আলু উত্তোলন হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলিক উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় আলুর মোট উৎপাদন হয়েছিল ২৭ লাখ ৩২ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এবার এর চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নগরীর তামপাট এলাকার চাষি নুর ইসলাম ও ইছার আলী বলেন, গত কয়েক বছর থেকে এবার আলুর উৎপাদন ভালো হচ্ছে। এবার প্রত্যাশিত দামের চেয়ে চড়া দামে আলু জমিতে বিক্রি হচ্ছে। সেই সাথে সৌদি আরব, মালোশিয়া, নেপাল ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হওয়ায় তারা স্বস্তিতে রয়েছেন।

লোকসানের সম্ভাবনা এবার নেই। তবে হিমাগারে রাখার পর শেষ পর্যন্ত আলুর দাম কেমন মিলবে, তা নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। তাই জমিতেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

পীরগাছা উপজেলার পারুল এলাকার মনজু আহমেদ ও ফুল মিয়া নামের দুই চাষি জানান, গত বছরের তুলনায় সার ও ডিজেলের দাম বেশি ছিল। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে অনেক। তবে এবার জমিতেই আলুর ভালো দাম পাওয়ায় তারা খুশি।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোছদ্দেক হোসেন বাবলু জানিয়েছেন, রংপুর নগরী জেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। প্রত্যেক বছর আলু উত্তোলন শুরু হবার পরেই হিমাগারে আলু সংরক্ষণ হয়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।

চলতি মৌসুমে চাহিদার কারণে আগাম ও অপরিপক্ব আলু জমিতেই বিক্রি করেছেন অনেক চাষিরা। ফলে হিমাগারগুলো খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

(Feed Source: sunnews24x7.com)