
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের এক শরণার্থী শিবিরে ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। পৃথক এই হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। এর মধ্যে মধ্য-গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। যাদের সকলেই শিশু। এছাড়া রাফাহ-তে বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন সাতজন।
মাগাজি শরণার্থী শিবিরটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং ইজরায়েল গাজায় আক্রমণ শুরু করার পরে ভূখণ্ডটির উত্তরে হাজার-হাজার পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার পরে এই শিবির আরও ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজার রাফাহ শহরের একটি বাড়িতে ইজরায়েলি হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরের কেন্দ্রস্থলে এক বাড়িতে ইজরায়েলি বিমান হামলায় চার শিশু-সহ সাতজন নিহত হন।
গত ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ইজরায়েলের নজিরবিহীন হামলা চালায়। হামাসের যোদ্ধাদের আক্রমণে ১২০০ জন নিহত হন। হামাস ২৫৩ জনকে ধরে গাজায় নিয়ে বন্দী করে রাখবে বলে দাবি ইজরায়েলের। ওই দিন থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইজরায়েল। তারা হামাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণাও করে এবং প্যালেস্টাইনকে নির্মূল করার কথা ঘোষণা করে। পরে সবদিক থেকে গাজা অবরোধ করে ভূখণ্ডটির বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহও বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে গত ছমাসেরও বেশি সময় ধরে ইজরায়েলি বাহিনীর স্থল, আকাশ ও নৌ হামলায় প্যালেস্টাইনের গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সকলেই এখন উদ্বাস্তু হয়ে গিয়েছে! কঠোর অবরোধ ও অবিরাম হামলার মধ্যে থাকা গাজাবাসীরা অনাহারে ভুগতে-ভুগতে দুর্ভিক্ষের প্রান্তে চলে গিয়েছে। অপুষ্টি ও জল খেতে না-পেয়ে শিশু-সহ অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
ইজরায়েলের টানা ৪৭ দিনের হামলার পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় চার দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দুদফায় মোট তিন দিন বাড়ানো হয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই আবার গাজায় হামলা শুরু করে ইজরায়েল। ইজরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই ২৪ হাজারের বেশি!
(Feed Source: zeenews.com)
