‘চিনের দাদাগিরিতে চোখ লাল’, LAC ঘেঁষে PLA-র বাঙ্কার নিয়ে মোদীকে তোপ প্রিয়াঙ্কার

‘চিনের দাদাগিরিতে চোখ লাল’, LAC ঘেঁষে PLA-র বাঙ্কার নিয়ে মোদীকে তোপ প্রিয়াঙ্কার

সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, পূর্ব লাদাখে প্যানগং এলাকায় ক্রমেই গতিবিধি বাড়ছে চিনের। স্থিতাবস্থা ফেরানো তো দূর, প্যানগংয়ের কাছে দীর্ঘ সময়ের জন্যে ঘাঁটি গেড়ে বসছে চিন। সম্প্রতি এমনই সব স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ভারতের সীমান্তের খুবই কাছে আন্ডাগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরি করে সেখানে জ্বালানি এবং বিস্ফোরক মজুত রেখেছে চিন। এদিকে সাঁজোয়া সামরিক যানও মোতায়েন রয়েছে সেই জায়গায়। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ হতেই তা নিয়ে মোদী সরকারকে তোপ দাগলেন উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেত্রী এবং রাজ্যসভা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা স্যাটেলাইট চিত্র থেকে দেখা গিয়েছে, প্যানগংয়ের কাছেই পাহাড়ের মাঝে চিনের সারজাপ ঘাঁটিতে গতিবিধি বাড়াচ্ছে চিনা সোনা। প্যানগংয়ের উত্তর তীরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে স্থানীয় হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছে পিএলএ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে এই সামরিক ঘাঁটি মাত্র ৫ কিলোমিটার। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সংঘর্ষের আগে এই এলাকায় কোনও জনমানবের চিহ্ন ছিল না। এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারকে তোপ দেগেছেন প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রিপোর্ট পোস্ট করে ক্যাপশনে রাজ্যসভার সাংসদ লেখেন, ‘একদশক আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে আমরা সবাইকে চোখ রাঙাব। তবে এই মোদী সরকার আমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যেখানে রাগে আমাদের চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। পূর্ব লাদাখ সব বিভিন্ন জায়গায় চিন আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’

রিপোর্ট অনুযায়ী, সারজাপে এই সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল ২০২১ সাল নাগাদ। মার্কিন সংস্থা ব্ল্যাকস্কাইয়ের প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, এই ঘাঁটির বড় আন্ডাগ্রাউন্ড বাঙ্কারের প্রবেশের জন্যে আটটি পথ রয়েছে। এছাড়াও আরও একটি ছোট বাঙ্কার রয়েছে এই ঘাঁটিতে। সেটিতে প্রবেশ করার জন্যে রয়েছে ৫টি পথ। এছাড়াও এই ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি বড়বড় ভবনও রয়েছে। বেশ কিছু ছাউনি রয়েছে। এই সারজাপ সামরিক ঘাঁটির সঙ্গে বেশ কিছু সুড়ঙ্গের যোগ রয়েছে। এছাড়া সড়কপথে এই ঘাঁটিকে যুক্ত করেছে চিন। এছাড়া এখানে আর্টিলারিও মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টে। এই সামরিক ঘাঁটিটি গালওয়ানের থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটায় দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এই সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে কোনও বাক্য ব্যয় করেনি ভারতীয় সেনা বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।