
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশ-সংকট যেন কমছে না। বরং রোজই কিছু-না-কিছু নতুন করে উঠে আসছে। যেমন সংখ্যালঘু শিক্ষকদের পদত্যাগ। প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে সেদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। হিন্দু-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানে হামলা চালানো হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আবেদন জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। আর এই প্রেক্ষিতেই সামনে এল একটি তথ্য– হাসিনাবিদায়ের পরে ৪৯ জন সংখ্যালঘু শিক্ষককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের এক ছাত্র সংগঠন জানিয়েছে।
জুলাই মাসের শুরু থেকে সংরক্ষণ সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত ছিল বাংলাদেশ। হাসিনা সরকারের সঙ্গে প্রতিবাদীদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আন্দোলনের জেরে গত ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ওইদিনই তিনি বাংলাদেশ ছাড়েন। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বেড়েছে বলে খবর হয়েছে। আর সেই আবহেই ৪৯ জন সংখ্যালঘু শিক্ষককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেল! তবে শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, ৪৯ জনের মধ্যে পরে ১৯ জনকে ফের নিয়োগ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য বলছে, হাসিনার বিদায়ের পর সেদেশের ৫০টি-রও বেশি জেলায় সংখ্যালঘুদের উপর দুশোরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও সপ্তাহখানেক আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার কমেছে, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
ক’দিন আগেই ‘হেফাজতে ইসলাম’ ও বাংলাদেশের ছ’টি ইসলামি দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীপদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলি করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইসলামি দলগুলির নেতাদের ওই বৈঠক হয়।
বৈঠকশেষে বেরিয়ে ‘হেফাজতে ইসলামে’র নেতা ও বাংলাদেশ ‘খেলাফতে মজলিসে’র মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীপদে এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি সময় যাতে না থাকেন, সেই প্রস্তাব তাঁরা দিয়েছেন। এ ছাড়া একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলি করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন তাঁরা। নির্বাচনে অযথা কালবিলম্ব যেন না করা হয়, তাঁরা সেটা উল্লেখ করেছেন। মামুনুল হক জানান, বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলির এমন প্রস্তাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের দিকে চলে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘হেফাজতে ইসলাম’ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’, ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’, ‘নেজামে ইসলাম’ ও ‘খেলাফত’ আন্দোলনের নেতারা বৈঠকে যোগ দেন।
(Feed Source: zeenews.com)
