
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের জেরে যখন বিরোধীরা একের পর এক তীর ছুড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছেন বিরোধীশিবির। এই পরিস্থিতিতে ‘মমতার সৈনিক’ হিসাবে মুখ খুলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার কথা বললেন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।
আরজি করে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনায় ডাক্তারদের প্রতিবাদকে সমর্থন করে শত্রুঘ্ন বলেন, ‘আমি ডাক্তারদের প্রতিবাদকে সমর্থন করি এবং একইসাথে মমতাজির আনা ঐতিহাসিক ধর্ষণ-বিরোধী বিলকেও সমর্থন করি। আরজি করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জন্য কোন মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করা ঠিক না। এই ঘটনা খুবই জঘন্য এবং মর্মান্তিক। কিন্তু যেভাবে এটাকে রাজনীতিকরন করা হচ্ছে, আমি তার প্রতিবাদে মমতাজির সৈনিক হিসাবে তার সাথে আছি।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলার রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রকে বলব বিলটিকে সমর্থন করার জন্য। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, বিলটিকে পাস করানোর জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ চাওয়া ঠিক নয়। যদি এটাই মাপকাঠি হয়, তাহলে মণিপুর, হাতরাস, উন্নাও, কাঠুয়ার মতো ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে।’
অন্যদিকে আরজি কর কাণ্ডের জেরে রাজ্যসভার সাংসদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ জওহর সরকার। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু একবাক্যে বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, “মাননীয়া মহোদয়া, বিশ্বাস করুন এই মুহূর্তে রাজ্যের সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ও রাগের বহিঃপ্রকাশ আমরা সবাই দেখছি, এর মূল কারণ কতিপয় পছন্দের আমলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পেশিশক্তির আস্ফালন। আমার এত বছরের জীবনে এমন ক্ষোভ ও সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা আগে কখনও দেখিনি।”
(Feed Source: zeenews.com)
