
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০১৪ থেকে ২০২২, ২১ জন শিশু নারকীয়তার শিকার। তাদের মধ্যে শুধু মেয়ে নয়, ছিল খুদে ছেলেরাও। জানা গিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের এক হস্টেলে ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে এই ভয়ংকর অভিযোগ উঠে এসেছে। অরুণাচলের বিশেষ কোর্টে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা করেছে। শুধু ওয়ার্ডেন নয়, স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এবং হিন্দির শিক্ষিকাকে পকসো আইনের অধীনে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শাস্তি দিয়েছে আদালত।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন এক ব্যক্তি ওই ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে ১২ বছরের যমজ পড়ুয়াকে যৌন নিপীড়ন, হয়রানি এবং ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তারপরই ওই মামলার বিরুদ্ধে এসআইটি বিশেষ তদন্ত গঠন করে। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ওই ওয়ার্ডেনের কুকীর্তি সামনে আসে। জানা যায়, ওই অভিযুক্ত ওয়ার্ডেন ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্কুলের হস্টেলের ওয়ার্ডেন হিসাবে থাকাকালীন ৬-১৪ বছর বয়সী ৬টি ছেলে-সহ কমপক্ষে ২১ জন নাবালককে যৌন হেনস্থা করেছে।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিত কিছু পড়ুয়া প্রধান শিক্ষক সিংতুং ইয়র্পেনের কাছে গিয়ে ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল। কিন্তু সে তাদের চুপ করে থাকতে বলেছিল, যাতে স্কুলের সুনাম নষ্ট না হয়। প্রধান শিক্ষক সিংতুং ইয়র্পেনের বিরুদ্ধেও এক পড়ুয়াকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি অভিযুক্ত ওয়ার্ডেনকেও সে গা ঢাকতে সাহায্য করছিলেন। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ছাড়া পেয়ে যায়।
গত বছর জুলাই মাসে ঘটনার চার্জশিট জমা পড়ে। সেখান থেকেও আরও ভয়ংকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, ওই অভিযুক্ত ওয়ার্ডেন পড়ুয়াদের নির্যাতিত করার আগে তাদের নেশাগ্রস্ত করে দিত। কুত্সিত ঘটনার কথা যাতে তারা কাউকে না বলে, তার জন্য সে শিশু পড়ুয়াদের ভয় দেখিয়ে রাখত। SIT জানিয়েছে, ওয়ার্ডেনের নির্যাতিত পড়ুয়াদের মধ্যে ৬জন আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিল।
বিশেষ আদালতে ২১ জন শিশুর পক্ষে যে আইনজীবী দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা খুবই খুশি। ভারতে এই প্রথম পকসো আইনের অধীনে কোনও অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে।’
অভিযুক্ত ওয়ার্ডেন আইপিসির ধারা ৩২৮, ২৯২ এবং ৫০৬ (অপরাধ করার উদ্দেশ্যে বিষ/ক্ষতিকারক পদার্থ খাওয়ানো, অশ্লীল ভিডিয়ো দেখানো এবং পকসো আইনের ৬,১০ এবং ১২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক ইয়র্পেন, যিনি হামলার সময় সরকারি আবাসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তাকে আইপিসির ধারা ১৭ (অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার জন্য) এবং ২১ (২) (অপরাধের রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া হিন্দির শিক্ষিকার এনগোমদির, যিনি স্কুলের একজন মহিলা শিক্ষক ছিলেন, তাকে আইপিসির ধারা ৫০৬ (ফৌজদারী ভীতি প্রদর্শন) এবং POCSO আইনের ১৭ এবং ২১ (১) ধারার অধীনে অপরাধে প্ররোচিত করা এবং একটি অপরাধের প্রতিবেদন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
