
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লিতে নার্সিংহোমে ঢুকে ‘অন ডিউটি’ চিকিত্সককে গুলি করে খুন ২ কিশোরের। সেই ঘটনায় ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। অপর অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। নার্সিংহোমে ঢুকে গুলি করে ‘অন ডিউটি’ চিকিত্সককে খুন করার পর অভিযুক্ত কিশোর তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে। যে ছবিতে ওই কিশোরকে বন্দুক হাতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘২০২৪-এর প্রথম খুন।’ এই পোস্টের সূত্র ধরেই সন্দেহভাজন ওই কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিস।
জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় ধৃত কিশোর। সে জানায়, তার একটা খুন করার ছিল, তাই সে করেছে! কিন্তু কেন? এমন হাড়হিম কাণ্ড ঘটানোর পিছনে কারণটা কী? কেন এমন ভয়ংকর কাজ করল সে? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় ধৃত কিশোর জানিয়েছে, ওই ডাক্তারকে খুনের জন্য তাকে বলেছিল তাঁর প্রেমিকার বাবা। আসলে তাঁর প্রেমিকার মা একজন নার্স। প্রেমিকার বাবা সন্দেহ করতেন, নিহত ডাক্তার জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর নার্স স্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ আছে। তাই সে যখন তাঁর প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চেয়ে তাঁর বাবার কাছে যায়, তখন তিনি বলেন, যদি সে ওই ডাক্তারকে মারতে পারে, তবেই একমাত্র তাঁর মেয়ের বিয়ে তিনি তার সঙ্গে দেবেন! একথা শোনা মাত্রই বন্ধুকে নিয়ে ওই ডাক্তারকে খুনের ছক কষে ধৃত কিশোর।
বৃহস্পতিবার দিল্লির নিমা হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থাতেই খুন হন বছর পঞ্চাশের আয়ুর্বেদ চিকিত্সক জাভেদ আখতার। তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চ (দক্ষিণ) অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করে। পুলিস সূত্রে খবর, দিল্লির জাফরাবাদের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পিস্তল কিনেছিল ওই দুই নাবালক। এরপর দিল্লির কালিন্দীকুঞ্জ থানার জৈতপুরে অবস্থিত নিমা নার্সিংহোমে রাত একটা নাগাদ পায়ের ক্ষত চিকিৎসা করানোর অছিলায় আসে ১৬-১৭ বছরের ওই ২ কিশোর। ড্রেসিং করানোর পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখাতে চায় তারা। এরপরই চিকিৎসকের চেম্বার থেকে শোনা যায় গুলির শব্দ। গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে আসেন হাসপাতালে কর্মীরা। তাঁরা এসে দেখেন, চিকিৎসকের মাথার বাঁদিকে গুলির ক্ষতচিহ্ন। আর রক্তে ভেসে যাচ্ছে চিকিৎসকের দেহ। ততক্ষণে অবশ্য চম্পট দিয়েছে ওই দুই কিশোর।
(Feed Source: zeenews.com)
