
নয়াদিল্লি: আট দশক আগে বোমা ফেলছিল আমেরিকা। মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল কোনও ভাবে। এত বছর পর হঠাৎ তীব্র বিস্ফোরণ ঘটল। আর তার জেরে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেল জাপানের বিমানবন্দরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা ওই বোমা ফেলেছিল বলে খবর। হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে ট্যাক্সিওয়েতে বিরাট গর্ত তৈরি হয়। তার জেরে প্রায় ৯০টি বিমানের উড়ান বাতিল করতে হয়েছে। (Japan News)
জাপানের মিয়াজাকি বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়ের ঠিক পাশে যে ট্যাক্সিওয়ে রয়েছে, সেখানেই আচমকী তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও, কী ঘটেছে দেখতে ছুটে যান বিমানবন্দরের কর্মীরা। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্তম্ভিত হয়ে যান তাঁরা। দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফরে ট্যাক্সিওয়ের মাঝামাঝি জায়গায় বিরাট গর্ত তৈরি হয়েছে, যার আয়তন প্রায় ২৩ ফুট, গভীরতা প্রায় ৩.২ ফুট। (Miyazaki Airport Blast)
জাপানের পরিবহণ মন্ত্রকও বিমানবন্দরে এই বিস্ফোরণের খবরে সিলমোহর দিয়েছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মিয়াজাকি বিমানবন্দরে পৌঁছয় দেশের গ্রাউন্ড সেলফ ডিফেন্স স্টাফ। বম্ব স্কোয়াডও পৌঁছয়। দেখা যায়, আমেরিকার ফেলা একটি বোমা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেটি ফেলা হয়েছিল। এতদিন মাটির নীচে চাপা পড়েছিল বোমাটি।
NEW: WW2 bomb explodes at a Japanese airport after being buried for 80 years.
The explosion caused a massive crater and led to 80 canceled flights at Miyazaki Airport in southwestern Japan.
The 20-foot wide crater was caused by a 500-pound WW2 bomb.
It’s unclear why exactly… pic.twitter.com/8x7SIpYazp
— Collin Rugg (@CollinRugg) October 2, 2024
এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি যদিও। কেউ আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়নি। কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতায় শিউরে উঠছেন সকলে। লাইব ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ট্যাক্সিওয়ের যে জায়গায় বিস্ফোরণটি ঘটে, মিনিট দুয়েক আগেও সেখানে একটি বিমান দাঁড়িয়েছিল। বিস্ফোরণের কিছু মুহূর্ত আগে বিমানটি সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
এই ঘটনার পরই রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাতিল করা হয় প্রায় ৯০টি বিমান। ওই গর্তটিতে মাটি ভরে, ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, JAL, ANA এবং অন্য বিমান সংস্থার উড়ান পরিষেবা বাতিল রয়েছে। বাতিল হয়েছে মিয়াজাকি থেকে টোকিও, ওসাকা, ফুকুওকা যাওয়ার বিমানও।
জাপানের দক্ষিণ-পূর্বে কিউশু দ্বীপে অবস্থিত মিয়াজাকি বিমানবন্দর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ লগ্ন পর্যন্ত সেটি জাপানের নৌবাহিনীর ঘাঁটি ছিল। সেখান থেকেই ‘Kamikaze’ অভিযান চালানো হতো। এর আগেও মিয়াজাকি বিমানবন্দর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা উদ্ধার হয়েছে। শুধু মিয়াজাকি বিমানবন্দরই নয়, জাপানের ইতিউতি এখনও এমন বহু পুরনো বোমা খুঁজে পাওয়া যায়, যেগুলি থেকে কোনও কারণে বিস্ফোরণ ঘটেনি। ২০২৩ সালে সবমিলিয়ে ২৩৪৮টি বোমা উদ্ধার হয় জাপানে, যার ওজন ছিল ৩৭.৫ টন। জাপানের সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্সেস এই তথ্য প্রকাশ করে।
(Feed Source: abplive.com)
