
#নয়াদিল্লি: চাকরি ছেড়ে অনেকেই আজকাল চাষবাস অথবা ডেয়ারির ব্যবসাকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। সেরকমই ঘটেছে কর্নাটকেও। সেখানকার এক যুবক মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে শুরু করেছেন ডেয়ারির ব্যবসা। তবে এক্ষেত্রে তিনি গরু-মোষের দুধ নয়, বরং গাধার দুধের ব্যবসা (Donkey Milk Farming) শুরু করেছেন! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! আর এই ব্যবসা করে বিস্তর লাভের মুখও দেখেছেন ওই ব্যক্তি!
আসলে গাধা এমন একটি প্রাণি, যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি নিরীহ গোবেচারা চেহারা। সাধারণত মাল বহন করানোর কাজেই এই প্রাণি ব্যবহৃত হয়। অথচ অনেকেই জানেন না যে, এই প্রাণিকে প্রতিপালন করে কোটি কোটি টাকা আয় করা যাবে। দুধের জন্য স্ত্রী গাধা পালন করলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর মুনাফা করা যাবে। কারণ আমাদের দেশে এখন গাধার দুধের চাহিদা বাড়ছে। আর হ্যাঁ, এই দুধের প্রতি লিটারের দাম শুনলেও চমকে যাবেন। কারণ এর প্রতি লিটারের দাম ৫০ বা ১০০ টাকা হয় না। প্রতি লিটার গাধার দুধের দাম ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (Donkey Milk Rate In India)।পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শ্রীনিবাস গৌড়া মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে গাধার দুধের ব্যবসা শুরু করেছেন। শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, গাধার দুধের প্রচুর চাহিদা। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছে ১৭ লক্ষ টাকার অর্ডার এসেছে। তিনি আরও জানান যে, গাধার দুধ প্যাকেট করে বিক্রি করা হবে। আর ৩০ মিলিলিটার প্যাকেটের দাম ১৫০ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। গাধার দুধের এই প্যাকেটগুলি বিভিন্ন মল, দোকান এবং সুপার মার্কেটে পাওয়া যাবে।
এই বিষয়ে কীভাবে আইডিয়া এল?
মানিকন্ট্রোল (Moneycontrol.com)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনিবাস গৌড়া কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ইরা গ্রামে থাকেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর তিনি নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং সেখানে ২.৩ একর জমিতে খরগোস এবং কড়কনাথ মুরগির একটি প্রজনন খামার খোলেন। শ্রীনিবাস বলেছেন যে, কয়েকটি প্রজাতির গাধার ক্রমহ্রাসমান অবস্থা দেখেই তাঁর মাথায় গাধার দুধের ব্যবসা করার ধারণা এসেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, যখন তিনি নিজের পরিকল্পনা অন্যদের জানিয়েছিলেন, তখন অনেকেই তাঁর এই আইডিয়া পছন্দ করেননি। তাই কারওর তোয়াক্কা না-করেই ২০টি গাধা নিয়ে কাজ শুরু করেন শ্রীনিবাস।
তিনি জানান, গাধার দুধ শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি নানা ঔষধি গুণে সমৃদ্ধও বটে! আর এই কারণেই গাধার দুধের দাম অন্যান্য দুধের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
গাধার দুধ থেকে তৈরি সামগ্রীর দামও অনেকটাই বেশি:
কথিত আছে, প্রাচীন মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা নিজের সৌন্দর্য বজায় রাখতে গাধার দুধে স্নান করতেন। ইউরোপ-আমেরিকায় যেভাবে গাধার দুধের ব্যবসা শুরু হয়েছে, ভারতে সেভাবে কিন্তু এই দুধের ব্যবসা হয়নি। আসলে আমাদের দেশে এই ব্যবসা এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। গাধার দুধ থেকে তৈরি সাবান, ময়েশ্চারাইজার এবং ক্রিমের চাহিদা ভারতেও ক্রমবর্ধমান। গাধার দুধ থেকে তৈরি ১০০ গ্রাম একটি সাবানের মূল্য ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
গাধার দুধের দারুণ গুণ:
বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা তাদের গবেষণায় দেখেছে, গাধার দুধ অনেকটা মানুষের দুধের মতোই। এতে প্রোটিন এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকলেও এতে ল্যাকটোজ বেশি পরিমাণে থাকে। এই দুধে অ্যান্টি-এজিং, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধর্মী যৌগও রয়েছে, যা ত্বককে পুষ্ট ও নরম করতে সাহায্য করে।
একটি গাধা কত পরিমাণ দুধ দিতে পারে?
আনন্দ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল জেনেটিক্স এবং প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ডি.এন. রাঙ্কা বলেন যে, একটি গাধা দিনে সর্বোচ্চ আধ লিটার পর্যন্ত দুধ দিতে পারে। আর গাধার রক্ষণাবেক্ষণ অনুযায়ী দুধের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। গাধার যত্ন না-নিলে এবং গাধাকে খাটিয়ে কাজ করালে কিন্তু দুধ পাওয়া যাবে না। যদি দুধের জন্য গাধা প্রতিপালন করতে হয়, তাহলে তার পরিচর্যা সঠিক ভাবে করতে হবে এবং ভালো করে খাওয়াদাওয়া করাতে হবে।
গাধার সংখ্যা কমছে:
ভারতে গাধার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। ২০১২ সালের পশু গণনাতে দেখা যায়, দেশে গাধার সংখ্যা ৩.২ লক্ষ। এর পর ২০১৯ সালের পশু শুমারিতে দেখা যায়, দেশে গাধার সংখ্যা ১.২ লক্ষে নেমে এসেছে। আসলে এখন আর সেভাবে মাল বহন করার জন্য গাধা ব্যবহার করা হয় না, আর এই কারণেই এদের সংখ্যা কমে আসছে।
