
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সকাল পেরিয়ে একটু বেলা হতেই বদল গেল পরিস্থিতি। হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় যে বিজেপি কংগ্রেসের প্রায় অর্ধেক ছিল তারাই সকাল দশটার পর তরতরিয়ে উঠতে থাকে। বুথ ফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিতকে প্রায় সত্যি করেও ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে কংগ্রেস। দিল্লির অকবর রোডে কংগ্রেসের অফিসে থেমে যায় ঢাক ঢোলের আওয়াজ, লাড্ডু বিলি। বেলা দেড়টা নাগাদ ভোট গণনার ফলে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৫০ আসনে। কংগ্রেস এগিয়ে ৩৫ আসনে। লোকদল ২ ও অন্যান্যরা ৩ আসনে এগিয়ে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে হরিয়ানায় তৃতীয় বারের জন্য সরকার গড়তে চলেছে গেরুয়া শিবির।হরিয়ানা বিধানসভায় মোট আসন ৯০। ম্যাজিক ফিগার ৪৬। বিজেপির বর্তমান যে অবস্থা তাতে লোকদল ও অন্যান্যদের সাহায্য না নিয়েই তারা সরকার গড়ে ফেলতে পারে। পঞ্জাব থেকে হরিয়ানা হওয়ার পর এই প্রথমবার তিনবার সরকার গড়তে চলেছে কোনও দল।
কীভাবে এই জয়? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির এই জয়ে প্রধান ফ্যাক্টর হয়েছে জাঠ ভোট ব্যাঙ্ক। এখানে একটা মেরুকরণ হয়েছে। এর বেশিরভাগ ফল ঘরে তুলেছে বিজেপি। রাজ্যের ৩৬ জাঠ অধ্যুসিত আসনের মধ্য়ে ১৯টিতে এগিয়ে বিজেপি। লোকসভা ভোটে ওই ৩৬ আসনের মধ্যে ২৭ আসনে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস। এখানেই বিজেপি তার প্রতিপক্ষ জননায়ক জনতা পার্টিকে ধরাশায়ী করেছে।
অন্যদিকে, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপিকে জিতিয়েছিল দক্ষিণ হরিয়ানা। এবারও সেটাই হয়েছে। এবার এই অঞ্চলের ১১ আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। গুরুগ্রামের মতো হাইটেক এলাকায় মানুষ বিজেপির পক্ষেই ভোট দিয়েছে। অর্থাত্ আরবান ভোট গিয়েছে বিজেপির ঘরেই।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, একবছর আগেই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী পদে একবছর আগে আনা হয়েছিল নায়েব সিং সাইনিকে। তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে ভালো ফল পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিজেদের মধ্যে বিবাদ, তৃণমূল পর্যায়ে দুর্বলতা তাদের হারের কারণ হয়েছে। পাশাপাশি অনেকে মনে করছেন আপের সঙ্গে জোট করলে হয়তো ভালো কিছু করতে পারত কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতা ভুপিন্দর সিং হুড়াকেও এই ফলের জন্য দায়ী করছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের ৯০ আসনের মধ্য়ে ৭২ আসনে টিকিট তিনি বিলি করেছেন তাঁর অনুগামীদের। জাঠ ভোটের মেরুকরণের ফল ঘরে তুলেছে বিজেপি। আর কংগ্রেসের একমাত্র সান্তনা হতে পারে জম্মু-কাশ্মীরের ফল।
(Feed Source: zeenews.com)
