
কোনও শুভ কাজ করার আগেই গ্রামের মানুষ গাবুরাকে প্রণাম করে তবেই গ্রাম থেকে বার হবেন। গাবুরার দর্শন করে তবে এই গ্রামের শুভ কাজ সম্পন্ন হয়।
গাবুরার পুজো ছাড়া হবে না কোনও শুভ কাজ! গ্রামের এই রীতির কথা জানলে অবাক হবেন”>
গাবুরার মন্দির
উত্তর দিনাজপুর: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ভিতরের ছোট্ট একটি গ্রাম দাসিয়া। গাছপালা প্রকৃতির মাঝেই রয়েছে এই গ্রামের প্রধান দেবতা গাবুরা। জমিতে যাওয়ার আগে কিংবা কোনও শুভ কাজ করার আগেই এই গ্রামের মানুষ গাবুরাকে প্রণাম করে তবেই গ্রাম থেকে বার হবেন। গাবুরার দর্শন করে তবে এই গ্রামের শুভ কাজ সম্পন্ন হয়। বহু বছর ধরে এই গ্রামের মানুষ পুজো করে আসছেন গাবুরা বা গাফুরাকে।
গ্রামের মাঝেই ছোট্ট একটি স্থান। সেখানে ছোট খোলামেলা এই মন্দিরে হয় গাবুরার পুজো। এখানকার গ্রামবাসীরা নিজেরাই তৈরি করেছেন ছোট মন্দির। মন্দিরের ভিতরে আছে কালো কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি। গ্রামের মানুষ এই মূর্তিকে গাবুর বা গাফুরা নামে চিহ্নিত করে আসছেন। গ্রামের যে কোনও শুভ অনুষ্ঠানের শুরুতেই হয় এই গাবুরার পুজো। এমনকি এই গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, কোনও ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে গাবুরার পুজো করলেই মিলবে রেহাই।
গ্রামের এক বাসিন্দা রমেন দেব শর্মা জানান, এলাকার পার্শ্ববর্তী গোয়ালারাও তাঁদের কোনও গাভীর দুধ না হলে এই গাবুরা দেবতাকে দুধ চড়ান। ফলে তাঁদের মনের কামনা পূরণ হয়। মনস্কামনা পূরণের পর গ্রামবাসীরা নিজেদের পছন্দমত উপহার তুলে দেন এই গাবুরাকে।
বহু বছর ধরে এই গ্রামে পুজো হয়ে আসছে গাবুরার। এই গাবুরাকে দর্শন করেই এই গ্রামের মানুষ নিজেদের যে কোনও শুভ কাজ করতে বার হন।এছাড়াও গ্রামে যে কোনও অনুষ্ঠান কিংবা পুজো হোক সমস্ত কিছু শুরুর আগেই গাবুরাকে পুজো দেওয়া হয়।
পিয়া গুপ্তা
