
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জঙ্গলে ভরা সমস্ত এলাকা। তারই মাঝে মা কালীর সাধনা। প্রায় ৫০০ বছর আগের কথা। গা ছম ছমে গোটা এলাকা। পায়ে হাঁটা সরু রাস্তা। দিনের বেলাতেও সেখানে হাঁটে না খুব একটা কেউ। সেখানেই ছিল ডাকাতের ডেরা। কালীপুজো করে তারা বের হত ডাকাতিতে। আর সেই ডাকাতের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত ত্রিবেণীর ডাকাতে কালী মন্দির। আসলে বিধুভূষন ঘোষের প্রতিষ্ঠিত এই দেবী। তিনি ছিলেন ভালো ডাকাত।
শোনা যায়, একবার গভীর জঙ্গল দিয়ে সাধক রামপ্রসাদ যাচ্ছিলেন। ডাকাত দল তখন মা কালীর পুজো করছে। ‘নর বলির’ জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। সাধককে ধরে নিয়ে আসে লেঠেল বাহিনী। বলি দেওয়ার আগে রামপ্রসাদ গেয়ে ওঠেন,”তিলেক দাঁড়া ওরে শমন বদন ভরে মাকে ডাকি, বিপদকালে ব্রহ্মময়ী আসেন কি না আসেন দেখি”। ডাকাত দল অস্ত্র ফেলে তাকিয়ে দেখে যে সাধক সেই কালী। পরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল ডাকাতরা। মগরা অঞ্চলের বিধুভূষন ঘোষ ছিলো ডাকাতদের সর্দার। তিনি ডাকাত কালী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ত্রিবনী কালিতলা এই কালী মন্দিরকে ঘিরেই। মগড়ার পার্শ্ববর্তী ডুমুরদহ আকনা খেই মেরে এলাকা থেকে তার দলে ডাকাতরা যোগ দেয়। প্রায় ৪০ জনের দল ছিল। এখন যেখানে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠিত সেখানে লাঠিখেলা অনুশীলন হত।বর্তমানে এই কালীমন্দিরের পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী তিনি জানান,”মাঘ মাসে মায়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। তখন অন্যকূট হয়। বৈশাখ মাস থেকে চড়ক পর্যন্ত প্রতিদিন বিশেষ পূজা হয়। সারা বছর ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় ধুমধাম করে পুজো হয়। রীতি মেনে মায়ের ভোগে এখনো ল্যাঠা মাছ পোড়া দেওয়া হয়। মন্দিরের সামনের পুকুর থেকে সেই মাছ ধরা হয়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নরবলির কথা আমরা শুনেছি। কয়েক মাস আগে মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয় তখন মাটি খুঁড়তে মানুষের কঙ্কাল বেরিয়েছিল। এখন যেখানে বটগাছ রয়েছে তার গোড়াতেও ‘মাথার খুলি’ পাওয়া যাবে”।
(Feed Source: zeenews.com)
