
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মৃগী রোগীরা প্রায়ই সমাজের কুসংস্কার ও ভুল ধারণার শিকার হয়ে থাকে। আজও কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে এবং অনেকেই মনে করেন যে তারা হয়ত মাদকাসক্ত, মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এমনকি সমাজের একাংশ তাদের এড়িয়ে চলার প্রবণতাও রাখেন।
এই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন ‘দঙ্গল’ সিনেমার অভিনেত্রী ফতিমা সানা শেখ। নতুন কোনো ছবিতে নয়, বরং নিজের শারীরিক সমস্যার জন্য সম্প্রতি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন তিনি। ফতিমা নিজেই জানান যে তিনি এপিলেপসি বা মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং প্রথমবার তার এই রোগটি ধরা পড়ে ‘দঙ্গল’-এর শ্যুটিংয়ের সময়। সেই সময় এ সত্যি মেনে নিতে তার খুব কষ্ট হচ্ছিল এবং প্রাথমিকভাবে তিনি কোনও ওষুধও খাননি। নিজের মধ্যে ভয় ছিলো, যদি লোকজনের সামনে খিঁচুনি হয়। ফতিমা বলেন, ‘মৃগী রোগীদের সমাজে অনেক রকমের ভুল ধারণার সম্মুখীন হতে হয়, মানুষ মনে করে আপনি হয়ত মাদকাসক্ত বা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।’
ফতিমা আরও বলেন, মৃগী রোগের বিষয়ে মানুষের অজ্ঞতার কারণে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত। খিঁচুনি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খিঁচুনির পরে মৃগীরোগীরা প্রায়ই মানসিক ট্রমার শিকার হন। ঠিকমতো ওষুধ না খাওয়ার জন্য আমার ক্ষেত্রে খিঁচুনির পরিমাণ বেড়ে যেতো।’ নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানান, ‘ওষুধের সঙ্গেও যেন যুদ্ধ করছিলাম, ভেবেছিলাম স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য এগুলো দরকার নেই।’
এছাড়া শ্যুটিংয়ের সময় বা মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথায়ও কখনও কখনও কাজ বন্ধ রাখতে হয় তাকে। ফতিমা আরও একটি সাধারণ ভুল ধারণা ভাঙেন—মৃগী রোগীর জ্ঞান ফেরানোর জন্য জুতোর গন্ধ শুঁকানো উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি একটি ভুল ধারণা, এটা কখনও করবেন না।’ একবার তিনি পাপারাজিদের তার রোগের কথা জানিয়েছিলেন এবং তারা বিষয়টির জন্য অত্যন্ত সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন।
(Feed Source: zeenews.com)
