শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠক, এবার কী ভবিষ্যৎ পৌষমেলার ?

শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠক, এবার কী ভবিষ্যৎ পৌষমেলার ?

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বোলপুর : সব মতানৈক্য কাটিয়ে গতবার শান্তিনিকেতনে (Shantinektan) বসেছিল পৌষমেলার (Poush Mela) আসর। মেলা শুরু হতেই সর্বত্র খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে। হাজারা হাজার মানুষ ভিড়ও জমান শান্তিনিকেতনে। এবারও পৌষমেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে পৌষমেলা আয়োজন করতে চলেছে। বুধবার বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে আয়োজিত কর্মী পরিষদের বৈঠকে  এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে বোলপুর- শান্তিনিকেতনের এলাকাবাসী ও হস্তশিল্পী মহলে খুশির হওয়া। Poush Mela 2024

এদিনের বৈঠকে বিশ্বভারতীর কর্মী-আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের (Visva Bharati University) রীতি ঐতিহ্য বজায় রেখে পৌষ উৎসবের পাশাপাশি পূর্বপল্লির মেলার মাঠে আয়োজিত হতে চলেছে পৌষমেলা। গত বছর রাজ্য সরকার এবং বীরভূম জেলা পরিষদ এই মেলা আয়োজন করেছিল। যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল।

গতবার পৌষমেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শান্তিনিকেতনে রাজ্য সরকার পরিচালিত পৌষমেলার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচদিনের এই মেলা পূর্বপল্লি মাঠে হওয়ার পেছনে মূলত মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ ছিল। কারণ, তিনি বিশ্বভারতী পৌষমেলা করবে না জানার পরেই জেলা প্রশাসনকে পৌষমেলা করার নির্দেশ দেন।

রাজ্য সরকার পরিচালিত বিকল্প পৌষমেলার ভার্চুয়াল উদ্বোধন (Virtual Inauguration) করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই জায়গা কেউ কলুষিত করুক চাই না। কোনও স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে বিশ্বভারতী চালালে হবে না। আশ্রমিক থেকে পড়ুয়া সকলকেই সম্মান দিতে হবে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পৌষমেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত মানুষ ভাল ভাবে নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পৌষমেলায় গতবার হস্তশিল্পীদের জন্য ছিল বিশেষ প্যাভিলিয়ন। মেলার সুরক্ষার বিষয়টিও জোরদার করা হয়। ১৬০০-এর বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে জানা যায়। বিশেষ করে মেলার মধ্যে ছিল ওয়াচ টাওয়ার। লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি পৌষমেলার রুট ম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। যা শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়। ওই ম্যাপ দেখে তাঁরা পৌঁছে যান মেলার মাঠে এবং মেলায় কোথায় কী তাও ম্যাপে ছিল।

(Feed Source: abplive.com)