শিলিগুড়িতে রেস্তোরাঁ খুললেন বাইচুং, নাম শুনলে অবাক হবেন!

শিলিগুড়িতে রেস্তোরাঁ খুললেন বাইচুং, নাম শুনলে অবাক হবেন!

ভারতীয় ফুটবলের জনপ্রিয় নাম বাইচুং ভুটিয়া। একটা সময় ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের হয়ে দাঁপিয়ে খেলেছেন। নেমেছিলেন রাজনীতিতেও,  এবার তিনিই পা রাখলেন ব্যবসার দুনিয়ায়। খুলে ফেললেন পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রেস্তোরাঁ। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে রেস্তোরাঁ খোলার চল থাকলেও ফুটবলারদের মধ্যে এরকম খুব একটা দেখা যায় না। এই বিষয় নজির গড়লেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং। শিলিগুড়ির সেবক রোডের উপর খুলে ফেললেন ৮ হাজার স্কোয়ার ফুটের মাল্টি কুইজিন রেস্তোরাঁ, নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোট’। এটি এখন সমগ্র পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় রেস্তোরাঁ। সেবক রোড সংলগ্ন টাইম স্কোয়ার নামক একটি বিল্ডিংয়ের দু’তলা এবং রুফ টপ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ‘গোট’।

রেস্তোরাঁর অন্দরমহল কেমন:

যেমন নাম তেমন তাঁর দর্শন। আপনি রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করলে একটি দেওয়ালে কিছু কিংবদন্তি ফুটবলারের ছবি লক্ষ্য করতে পারবেন। সেখানে রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, জিনেদিন জিদান, পেলে, মারাদোনা এবং ব্রাজিলের রোনাল্ডো। শুধু তা নয়, রেস্তোরাঁয় স্থান পেয়েছে আশিয়ান জয়ের স্মৃতি, সাজানো রয়েছে বাইচুংয়ের প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পুরস্কার এবং ফাইনালে সেরা ফুটবলার হওয়ার পুরস্কার। অন্যদিকে আরও একটি দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা আশিয়ান কাপ জয়ের জার্সি। এছাড়াও দেশের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি বায়ার্ন মিউনিখের ফুটবলারদের কাছ থেকে সই করা যেই জার্সি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন সেটাও রাখা রয়েছে। স্থান পেয়েছে মাইকেল বালাক, কাকাদের সঙ্গে খেলা জার্সিও। বাদ যায়নি মোহনবাগানের জার্সি। সুতরাং শুধুমাত্র খাওদাওয়া নয়, আপনি এখানে পেয়ে যাবেন ভরপুর ‘স্পোর্টিং অ্যাম্বিয়েন্সও’।

খাওয়া-দাওয়া কী পাওয়া যায়:

বাইচুংয়ের এই রেস্তোরাঁয় ভারতীয়, কন্টিনেন্টল, চাইনিজ, জাপানি- সব ধরণের খাবারই পাওয়া যায়। রয়েছে একটি ‘পাব’ ও। পাশাপাশি লাইভ মিউজিকের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন সঙ্গীতের সঙ্গে মাঝে মাঝে বাউল গানের আয়োজনও করা হয়ে থাকে। এছাড়াও যারা নাচ-গান পছন্দ করেন তাঁদের জন্য রয়েছে নাইট ক্লাব। এমনকী  রুফ টপ থেকে ভাগ্য সহায় থাকলে দিনের বেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন লাভও সম্ভব। চাইলে আপনি আবার বন্ধুদের নিয়ে একটু ফুটবলও খেলে নিতে পারবেন, রুফ টপের একপাশে  রয়েছে ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল খেলার টার্ফ।  রেস্তোরাঁ খোলার মন হল কেন বাইচুংয়ের? তাঁর সাফ বক্তব্য, খেলার জন্য বাড়িতে কম, হোটেল-রেস্তোরাঁয় সময় কাটিয়েছেন বেশি। দেশ বিদেশের নানা রেস্তোরাঁ ঘুরতে হয়েছে তাঁকে। তখন থেকেই মনের মধ্যে নিজের একটি রেস্তোরাঁ খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন বাইচুং। অবসরের পর নিজের সেই স্বপ্নই পূরণ করলেন তিনি।

(Feed Source: hindustantimes.com)