
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ও সেরা চলচ্চিত্র উত্সব হল কান চলচ্চিত্র উত্সব। এবছর সেই চলচ্চিত্র উত্সবে গ্রাঁ প্রি জিতে নিয়েছে একটি ভারতীয় ছবি। পায়েল কাপাডিয়া পরিচালিত সেই ছবি ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’। বিদেশের মাটিতে ভূয়সী প্রশংসার পরে এই ছবি অবশেষে শুক্রবার ২২ নভেম্বর মুক্তি পেল ভারতের প্রেক্ষাগৃহে।
ছবি মুক্তির প্রায় ২ মাস আগে এই ছবি সেন্সর বোর্ডের কাছেও পাসমার্ক পায়। বাদ পড়েনি কোনও সংলাপ, এমনকী একটিও সিন। যেখানে রয়েছে অন্তরঙ্গ যৌন দৃশ্য ও নগ্নতা। সারা বিশ্বে এই ছবি প্রশংসা পাওয়ার পর অনেকদিন ধরেই ভারতীয় দর্শকরা এই ছবির অপেক্ষা করছিলেন। ছবি মুক্তির পরেই অনেক দর্শকই প্রশংসা করেছেন যে সার্টিফিকেশন বোর্ড ছবির যৌনদৃশ্য ও ফ্রন্টাল ন্যুডিটি একটি সিন কাটেননি। কারণ ছবির জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ সিন।
সূত্রের দাবি, ‘সিবিএফসির এক্সামিন কমিটির এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আধুনিক ও উদার। তাঁরা অন্তত এবার বুঝেছেন যে এই দৃশ্যগুলি ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবির গল্প ও ছবির মুডের জন্য যা জরুরি। আরোপিত নয়। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে এই ছবি অবশ্যই ল্যান্ডমার্ক, যেখানে সিবিএফসি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। সেই দিক থেকে এই ছবি একটি উদাহরণ হিসাবে গণ্য হবে।
পায়েল কাপাডিয়ার ছবি অল উই ইমাজিন অ্যাস লাইটের গল্প আবর্তিত হয়েছে তিন মেয়েকে কেন্দ্র করে। তিন মেয়ে একসঙ্গে চাকরি করে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে। ইট কাঠ পাথরের শহরে তাঁদের তিন জনের জীবনযুদ্ধের কাহিনী উঠে আসে ছবির চিত্রনাট্যে। বন্ধুতা, সম্পর্কের দৃঢ়তা ও একে অপরের প্রতি টান উঠে এসেছে গল্পের পরতে পরতে।
ছবিতে মহিলা চরিত্রের নগ্নতা প্রসঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে পরিচালক পায়েল কাপাডিয়া বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি নর্ম্যাল করতে চাই। কারণে খাওয়া, ঘুমানোর মতোই এটা প্রতিদিনের জীবনের অঙ্গ। আমি প্রধান থিমের উপর দায়বদ্ধতা থেকেই এটা রেখেছি। এটি একটি চাহিদা এবং তা পাওয়ার অনেক উপায় আছে। এটি চিত্রনাট্যে রাখার জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।” প্রসঙ্গত, অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট ৭৭ তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার করে ইতিহাস তৈরি করেছে। ১৯৯৪ সালের পর প্রথম কোনও ভারতীয় চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং মর্যাদাপূর্ণ গ্রাঁ প্রি জিতেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
