
কয়েকটি বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করে বিরোধী শিবিরে প্রধানমন্ত্রী ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে৷
নয়াদিল্লি: ঝাড়খণ্ড দখল করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরেও মহারাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন জোট৷ আর তার পরই শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে নাম না করে কংগ্রেস সহ বিরোধীদের একাংশকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ মুষ্টিমেয় কয়েকজন সংসদ চলতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷ এমন কি, কয়েকটি বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করে বিরোধী শিবিরে প্রধানমন্ত্রী ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে৷
আদানি, মণিপুর, ওয়াকফ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে শীতকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধী শিবির সরকারের উপরে চাপ বাড়াতে পারে৷ তার আগে পাল্টা বিরোধীদের বিরুদ্ধেই আক্রমণ শানিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী৷
এ দিন শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে মোদি বলেন, ‘যাঁদের মানুষ অস্বীকার করেছেন, এরকম মুষ্টিমেয় কয়েকজন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের সংসদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, হাঙ্গামা করছেন৷ বার বার তাঁদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ সংসদ অচল করা ছাড়া এরা কোনও কিছুতে সফল হন না৷ গণতন্ত্রকে এরা সম্মান করে না৷ ৮০-৯০ বার যাঁদের মানুষ বর্জন করেছেন, তাঁরা সেটা মানতে চাননা। জনগণের কথা ভাবেন না, মানুষের প্রতি কোনও দায়িত্ব যে আছে, সেটাই এরা বোঝে না৷ তাই মানুষও তাঁদের প্রত্যেকবার খালি হাতে ফেরান৷ নতুন সাংসদদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে৷ তাঁরা সংসদে বলার সুযোগ পাচ্ছেন না৷’
এর পরেই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বিপক্ষ দল দায়িত্বশীল ব্যবহার করে৷ তারা চান সংসদ ঠিকমতো চলুক৷ কিন্তু যাদের বার বার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা নিজেদের সঙ্গী দলগুলির এই ভাবনাকেও সম্মান করে না৷’
যদিও সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত বিরোধীরা সংসদকে ঠিক মতো চলতে দেবেন৷ মোদি বলেন, ‘আজকে গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে৷ বিশ্বস্তরে ভারতের সম্মান, আকর্ষণ বেড়েছে৷ আমাদের আচরণও তার সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত৷ এই সুযোগ বার বার আসে না৷ ভারতের সংসদ থেকে গোটা বিশ্বেও সেই বার্তা যাওয়া উচিত৷ যে ভারতের মানুষ গণতন্ত্র, সংবিধানে বিশ্বাস রাখেন৷’
