
‘সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইচ্ছায় চলবে ভারত’ থেকে ‘কাঠমোল্লা’- এমনই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শেখরকুমার যাদব। সংবাদমাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লিগ্যাল সেলের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই যে এটা হিন্দুস্তান। আর এখানে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইচ্ছায় এই দেশ চলবে। এটাই আইন। হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে মন্তব্য করার বিষয় নয় এটা। বরং সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই আইন চলে। এই বিষয়টাকে পরিবার বা সমাজের প্রেক্ষিত বিবেচনা করে দেখুন – সংখ্যাগরিষ্ঠতার কল্যাণ এবং সুখ নিশ্চিত করে যে বিষয়টা, শুধুমাত্র সেটিকেই গ্রহণ করা হয়। ’
সেইসঙ্গে ‘কাঠমোল্লা’-দের বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন বিচারপতি যাদব। সেই ‘কাঠমোল্লা’ শব্দটা সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, উগ্রপন্থীদের নিশানা করে বিচারপতি যাদব বলেছেন, ‘এই যে কাঠমোল্লারা আছে….এটা উপযুক্ত শব্দ নয়। কিন্তু আমি সেই শব্দটা ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করছি না, কারণ ওরা দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক। ওরা দেশবিরোধী। ওরা সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেওয়ার লোক। দেশ যাতে এগিয়ে যেতে না পারে, সেই চেষ্টায় থাকা লোক এরা। ওদের থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
সেইসঙ্গে বিচারপতি যাদব দাবি করেন, একটি সম্প্রদায়ের শিশুদের উদারতা এবং অহিংসার মূল্যবোধ শেখানো হয়। সংযমী হতে শেখানো হয় তাদের। কিন্তু অপর একটি সম্প্রদায়ের শিশুদের থেকে সংযম আশা করা কঠিন কাজ। কারণ তারা চোখের সামনে পশুহত্যা দেখে আসে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি যাদব বলেন, ‘আমাদের দেশে ছোট থেকেই আমাদের শেখানো হয় যে যত ক্ষুদ্র পশু হোক না কেন, প্রত্যেক জীবন জীবকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের কষ্ট দেওয়ার মতো কাজ এড়িয়ে চলতে হবে। এই শিক্ষাটা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। সেই কারণেই সম্ভবত আমরা বেশি সংযমী এবং সহানুভূতিশীল। অন্য কেউ যখন কষ্ট পায়, তখন আমরা কষ্ট অনুভব করি। কিন্তু সকলের ক্ষেত্রে বিষয়টা সমান নয়।’
কাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা ‘সমান’ নয়, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন বিচারপতি যাদব বলেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে ‘অন্য কয়েকটি সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শিশুরা পশুহত্যা দেখে বড় হয়। যেটার কারণে তারা সংযমী এবং সহানুভূশীল হবে বলে আশা করাটা কঠিন হয়।’
আর বিচারপতি যাদবের সেইসব মন্তব্য নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।
(Feed Source: hindustantimes.com)
