
রাজীব চক্রবর্তী: দেশে যে কোনো উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্র বদল নিয়ে নতুন মামলা নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ আসা পর্যন্ত উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্র নিয়ে নতুন কোনও মামলা দেশের কোনও আদালতে নথিভুক্ত করা যাবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন আদালতে যে মামলাগুলি চলছে, সেই মামলাগুলিতেও কোনও অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত আদেশ দিতে পারবে না তারা।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এখন সুপ্রিম কোর্টে ১৯৯১ সালের ‘প্লেসেস অফ ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশনস) অ্যাক্ট’-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একাধিক আবেদনের শুনানি চলছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট সারা দেশে উপাসনাস্থলগুলি যেখানে যে অবস্থায় ছিল, তার পরিবর্তন করা যাবে না।
বাবরি মসজিদ রামজন্মভূমি এবং তার আগে-পরে সমধর্মী বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে দেশে প্রচুর জলঘোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্বেষবীজ বপন করার পাশাপাশি এসব পৌঁছে গিয়েছে আইনের দরজায়। মামলা, শুনানি, তরজা তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদিতে সরগরম থেকেছে গোটা দেশ। দেসের বাতাস উত্তপ্তই হয়েছে অনর্থক, কাজের কাজ কিছু হয়নি। ফলে, দেশ স্বাধীন হওয়ার দিনে কোনও মন্দির মসজিদ চার্চ গুরুদ্বার ঠিক যেখানে ছিল, তাকে সেখানেই স্বীকার করে নেওয়া হবে। তা নিয়ে কোনও পক্ষের কোনও ওজর-আপত্তি শোনা হবে না। কোথাও মন্দির থাকলে অন্য পক্ষের অনেকেই দাবি করে, এখানে একদা মসজিদ ছিল, সেটা ফেরাতে হবে। আবার উল্টোটা। ফলে এতে অকারণ বিতর্ক তৈরি হয়। দেশের সম্প্রীতির সুস্থ পরিবেশ ব্যাহত হয়।
প্রসঙ্গত, এই ধরনের মামলার মধ্যে যেগুলি এখন প্রায় মুখে-মুখে ফেরে সেগুলি হল– শাহ জামা মসজিদ কেস, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ কেস, মথুরার শাহী ইদগাহ মসজিদ কেস, রাজস্থানের অজমেঢ় দরগা কেস।
(Feed Source: zeenews.com)
