
সুকান্ত মুখোপাধ্যায়,নয়াদিল্লি: ফের ঘরের মধ্যেই তীব্র সমালোচনার মুখে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার ( Muhammad Yunus Government)। বর্তমান সরকারে থাকা ব্যক্তিরা কাজের মানুষ নন, কটাক্ষ বাংলাদেশের নাগরিক ঐক্যের সভাপতির। এক চোরের দল বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আরেক দল লুঠপাট ও দখলদারির রাজনীতি শুরু করেছে, মন্তব্য মাহমুদুর রহমানের (Mahmudur Rahman )।
নাগরিক ঐক্যের নাগরিক ঐক্য মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে দেশ চালায়, যে দেশ সম্পর্কে জানে না, যে মানুষ সম্পর্কে জানে না, সে দেশের ভাল করবে কী করে? এই সরকার ভাল মানুষ কিন্তু কাজের মানুষ নয়। ফের ঘরেই সমালোচনার মুখে পড়ল মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।কবি ও দার্শনিক ফারহাদ মাজহার, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষের পর,এবার রাজনৈতিক দল, নাগরিক ঐক্যর সভাপতিও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। ৫ অগাস্ট, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর অন্য বাংলাদেশ গঠনের ডাক দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। দেশের মাথায় বসেছেন শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত মহম্মদ ইউনূূস।কিন্তু তারপর সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্রমেই আক্রমণ নেমে এসেছে। যার প্রমাণ এই ছবিগুলিই। অথচ সব দেখেও যেন কিছুই দেখছে না ইউনূস সরকার। যার বিরুদ্ধে আগেই মুখ খুলেছিলেন কবি ও দার্শনিক ফারহাদ মাজহার। চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিও তুলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের কবি ও দার্শনিক ফারহাদ মাজহার বলেন, আমি শুধুমাত্র বিনীত অনুরোধ জানাব যে,চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে সত্যিকারের কোনও অভিযোগ যদি না থাকে, প্রথম কাজ হচ্ছে তাঁকে মুক্তি দেওয়া। আমার তাঁকে কোনওভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্রোহী বলে মনে হয়নি। তাঁদের কিছু অভিযোগ আছে। এর আগে বিভিন্নরকম রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত খারাপভাবে ব্যবহার করেছে।
এমনকী সেদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও কার্যত ইউনূস সরকারকে রাজধর্ম পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, কেউ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আইনজীবীরা সংবিধানের প্রথম সারির রক্ষক। আইনজীবীরা কণ্ঠহীনদের প্রতিনিধিত্ব করেন। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অসীম ভূমিকা রাখেন আইনজীবীরা। এমনকী এজলাসের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষও। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ বলেন,’ আমি আক্রমণের শিকার হয়েছি ভিতরে…আমাকে একটা ঘুষি মেরেছে। এটা তো আক্রমণ। শুধু শারীরিকভাবে আক্রমণ নয়। আমাকে মৌখিকভাবেও আক্রমণ করেছে। আমাকে শারীরিকভাবে শুধু আক্রমণ নয় মৌখিকভাবে আক্রমণ করেছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য়, আমি বলব, এটা ধর্মীয় কারণে এই হামলা হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার আমাদের দেশে, আমি মনে করি।’
আর এবার নাগরিক ঐক্যর সভাপতি সরাসরি বললেন, দেশের সরকার পরিবর্তন হলেও চুরি-ঘুষ থামেনি। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি লড়াই করেছি চুরি বন্ধ করার জন্য। আমি লড়াই করেছি আমার অবস্থা বদলাতে। আমি দেশটা ভাল রাখতে চাই। ভাল হয়ে যান সবাই। আমি এইজন্য বলি, এই যে সরকার, এই সরকার এই কাজগুলো করতে পারেনি, রাজনীতি তো কোনও দিন করেনি, আগে খুব বলত, ভাল মানুষরা কি রাজনীতি করে? এখন সবাই বলে, রাজনীতির সরকার যদি হত, তাহলে তারা জানতে পারত, বলে না লোকে, কেন বলে?’ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন,’ ওখানে যে বুদ্ধিজীবিরা আছেন, ওদেরকে তো দেখতে হবে, কাউকে তো বলতে হবে, কাউকে তো সংখ্যালঘুদের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে। নাহলে পরিস্থিতি খুব ভয়ঙ্কর হয়ে যাবে। আমরা আশা করি যে অন্তর্বর্তী সরকার এর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ করবে।’
(Feed Source: abplive.com)
