
Bankura News: বাঁকুড়ায় রয়েছে “রক ক্লাইম্বিং” ইউনিভার্সিটি! জানতেন কি?


বাঁকুড়া: শুশুনিয়া পাহাড় রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজের টানে সারা বছর দূর দূরান্তের পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে, শীতকালীন মরশুমে পর্যটকদের পাশাপাশি ভিড় জমান পর্বতারোহীরা। শুশুনিয়া পাহাড় আদর্শ রক ক্লাইম্বিং প্রশিক্ষণের জন্য। রক ক্লাইম্বিং ইউনিভারসিটি বলে খ্যাত এই পাহাড়। তাই ১৯৬৫ সাল থেকে টানা এখনওপর্যন্ত দেশ বিদেশের পর্বতারোহীরা আসছেন শুশুনিয়া পাহাড়ে। শুশুনিয়া পাহাড়ে প্রথম রক ক্লাইম্বিং কোর্স চালু করেছিল ‘হিমালয়ান আ্যসোসিয়েশন’।
প্রথম রক ক্লাইম্বিং কোর্সে উপস্থিত ছিলেন মানিক ব্যানার্জি, চঞ্চল মিত্র, অমূল্য সেন, নিতাই রায়, প্রাণেশ চক্রবর্তী, সুদীপ্তা সেনগুপ্ত সহ বিশিষ্টরা। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন নিমা তাসি, দা নামগিয়াল, কে পি শর্মা। করালি প্রসাদ দত্ত, করালি মিত্র, তৎকালীন মন্ত্রী জগন্নাথ কোলে এদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় সেই সময় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল রক ক্লাইম্বিং প্রশিক্ষণকে।
ধারাবাহিকভাবে প্রাচীন এই রক ক্লাইম্বিং ইন্সটিটিউট ও আ্যডভেঞ্চার স্পোর্টস সংগঠন ’হিমালয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ শুশুনিয়া পাহাড়ে ৫৯ তম রক ক্লাইম্বিং কোর্স এর আয়োজন করল ২২ জনকে নিয়ে। চার দিনের এই কোর্সে পাহাড় ও ট্রেকিং সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে বাড়ি ফিরতে পারলবলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুধুমাত্র পাহাড়ে ওঠাই নয়। পাহাড়ে চড়া ছাড়াও রয়েছে পরিবেশ সম্বন্ধে সচেতনতা। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন না হলে, হতে পারে বিবিধ সমস্যা। যারা পাহাড়ে উঠছেন, প্রচন্ড দৈহিক পরিশ্রম প্রয়োজন তাঁদের। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে চড়াই করে উপরে ওঠা খুবই কঠিন একটি কাজ। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মবোধ হওয়াটা খুবই প্রয়োজন। সেই কারণে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতাও এই সকল কোর্সের একটি অঙ্গ। এভাবেই বছরের পর বছর রাজ্যের পর্বত আরোহনে একটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে শুশুনিয়া পাহাড় মদত জুগিয়ে যাচ্ছে।
নীলাঞ্জন ব্যানার্জী