Abhishek Banerjee: ‘ক্রীড়া ও চলচ্চিত্রের ব্যক্তিত্বরা চুপ কেন?’ মনমোহন প্রসঙ্গে প্রশ্ন অভিষেকের

Abhishek Banerjee: ‘ক্রীড়া ও চলচ্চিত্রের ব্যক্তিত্বরা চুপ কেন?’ মনমোহন প্রসঙ্গে প্রশ্ন অভিষেকের

ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র জগতের একাংশ মনমোহনের প্রয়াণে ‘নীরব’ রয়েছেন বলে মনে করছেন অভিষেক। সমাজমাধ্যমে এইভাবেই একটি পোস্ট করেন তিনি। যদিও সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি তৃণমূল নেতা। তবে ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র দুনিয়ার নানান ব্যক্তিত্বদের এমন মনোভাব বেশ কিছু ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বলেই অভিমত অভিষেকের। নিজের…আরও পড়ুন

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

নয়াদিল্লি: অধুনা প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য ঘিরে ইতিমধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। সেই বিতর্কের মাঝেই এ বার সমাজমাধ্যমে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র জগতের একাংশ মনমোহনের প্রয়াণে ‘নীরব’ রয়েছেন বলে মনে করছেন অভিষেক। সমাজমাধ্যমে এইভাবেই একটি পোস্ট করেন তিনি। যদিও সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি তৃণমূল নেতা। তবে ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র দুনিয়ার নানান ব্যক্তিত্বদের এমন মনোভাব বেশ কিছু ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বলেই অভিমত অভিষেকের। নিজের এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে এই নীরবতার পিছনে কেন্দ্রের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় কাজ করছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি এমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মনমোহন। দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং উদারনীতির জন্য পথকে প্রশস্ত করার জন্য তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে দলমতনির্বিশেষে ভারতের সব রাজনীতিকের থেকে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও শোকবার্তা এসেছে। শনিবার দিল্লির নিগমবোধ ঘাটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্যের সময়ে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেও।

তবে মনমোহনের প্রয়াণের পর থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয় কংগ্রেসের। প্রথমে শেষকৃত্যের স্থল নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। পরে নিগমবোধ ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাঁর। সেখানে গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেসের অন্য নেতাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নিগমবোধ ঘাটে শেষকৃত্যের সময়ে কেন্দ্র মনমোহনের প্রতি ‘অশ্রদ্ধা’ প্রদর্শন করেছে বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। শনিবার বিকেলে শ্মশানে ‘অব্যবস্থা’র অভিযোগ তুলে সরব হন কংগ্রেস নেতারা। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এই বিতর্কের আবহে এ বার মনমোহনের প্রয়াণে ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র দুনিয়ার একাংশের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেকও।

অভিষেক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “তথাকথিত ‘আইকন’দের অনেকেরই জাতীয় স্তরের কোনও প্রসঙ্গে চুপ থাকা রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে।” এমন ঘটনা এই প্রথম নয় বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, অতীতে কৃষক আন্দোলন বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনের সময়েও এই একাংশের ব্যক্তিত্ব ‘চুপ’ থেকেছেন। বর্তমানে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়েও ওই একাংশ ‘নীরব’ রয়েছেন বলে অভিযোগ অভিষেকের। তৃণমূল নেতার বক্তব্য, এই ব্যক্তিত্বেরা সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেয়ে খ্যাতি এবং অর্থ উপার্জন করেছেন। অথচ যখন তাঁদেরকে দেশের প্রয়োজন, তখন ন্যূনতম নৈতিক পদক্ষেপ করতে তাঁরা লজ্জা পাচ্ছেন। এমন অবস্থায় জীবনে চলার পথে কাদের অনুকরণ করা উচিত, সে বিষয়ে পুনরায় ভেবে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন অভিষেক।