
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বছর শেষে প্রতিবারই মধ্যরাতে সেলিব্রেশনের মুডে থাকে গোটা বিশ্ব। সেই মতো এবছরও ঘড়িতে রাত ১২টা বাজতেই বাজি ফাটিয়ে সারা শহরে শুরু হয় সেলিব্রেশন। কিন্তু সেই সেলিব্রেশন, আতসবাজির সেই বিকটশব্দই কারোর কারোর কাছে দুঃখের কারণ হয়ে ওঠে। অসুস্থ মানুষ, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে পোষ্য, বাজির শব্দে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে। এবার সেই বাজির উল্লাসেই সন্তানসমকে হারালেন টলিউডের অভিনেত্রী বৃষ্টি রায় (Brishti Roy)।
বছরের প্রথমদিনেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন বৃষ্টি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে নিজের কষ্টের কথা জানালেন অভিনেত্রী। কীভাবে তাঁর চোখের সামনেই চলে গেল তাঁর সন্তানসম পোষ্য। বৃষ্টি বলেন, কারোর উল্লাসে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু আতসবাজি এত বিকটশব্দে তাঁর একমাত্র পোষ্য হার্টফেল করে মারা গেল তাঁর চোখের সামনে। একমুহূর্তের জন্যও কান্না আটকাতে পারলেন না অভিনেত্রী। তিনি বললেন, হয়তো একটা পাখির মৃত্য়ু হয়েছে বলে কোনও থানা অভিযোগ নেবে না। কিন্তু সেই পাখি তাঁর বাচ্চা। মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আঁকড়েই ছিলেন অভিনেত্রী।
বছরের প্রথম দিনের সকালে লাইভে এসে কাঁদতে কাঁদতে অভিনেত্রী বললেন লুডোই ছিল তাঁর জীবন, তাঁর সন্তান। লুডো হল সানকুনু প্রজাতির পাখি, এক ধরনের তোতা পাখি। বৃষ্টির ছায়াসঙ্গী ছিল সে। ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে অতিরিক্ত বাজির শব্দে হার্ট অ্যাটাক করে তার। লাইভে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমার বাচ্চাটা হার্টফেল করে চলে গেল। মানুষের বাচ্চা নয়তো তাই অভিযোগ নেবে না কোনও থানা। কিন্তু বিশ্বাস করুন কারও আনন্দে আমার আপত্তি নেই। কিন্ত এই প্রাণীগুলোর কথা ভাবুন। সহ্য করতে পারল না আমার বাচ্চাটা। বেশি বয়স ছিল না ওর। গুগল বলছে সানকুনুরা ২০-২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচে। কিন্তু এত বাজির শব্দ সহ্য করতে পারল না।”
প্রসঙ্গত, বর্ষশেষের রাতে বাজি ফাটানোর বিরোধীতা করেন জয়া আহসান। সবাইকে অনুরোধ করেন বাজি না ফাটানোর জন্য। এরপরেই এই দুর্ঘটনা। বৃষ্টির পাশে দাঁড়িয়ে বাজি ফাটানোর তীব্র বিরোধিতা করেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
(Feed Source: zeenews.com)
