
তাঁদের কীর্তির কথা পুলিশের কানেও পৌঁছয়। অভিযোগও জমা পড়ে বিস্তর। এরপরই অভিযানে নামে দিল্লি পুলিশ। নতুন বছরের প্রথম দিনেই মেলে সাফল্য। বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস। উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে শ্যালক আর জামাইবাবুকেও।
পুলিশ জানিয়েছে, শ্যালক আর জামাইবাবু মিলে দামি গাড়ি চুরি করত। তারপর চেসিস ও ইঞ্জিনের নম্বর পাল্টে মোটা টাকায় ভিন রাজ্যে বিক্রি করে দিত। কয়েক মিনিটে ৫০-এর বেশি ফর্চুনার গাড়ি উধাও করে দিয়েছিলেন তাঁরা।
২০ ডিসেম্বর দিল্লি পুলিশের কাছে খবর আসে, একটি কালো রঙের ফর্চুনার গাড়িতে চেপে শ্যালক আর জামাইবাবু দলবল নিয়ে দিল্লিতে ঢুকছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর মনমীত মালিকের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। নয়ডা সীমান্তের কাছে চিল্লা মোড় ময়ূর বিহারে ফাঁদ পাতে পুলিশ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢোকে কালো ফর্চুনার। আগে থেকেই ব্যারিকেড করা ছিল। পুলিশ গাড়ি থামাতে যেতেই, তারা গতি বাড়িয়ে দেয়। পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। শেষমেশ দলবল সমেত জালে ধরা পড়েন শ্যালক ও জামাইবাবু।
জিজ্ঞাসাবাদে জামাইবাবু জানান, তাঁর নাম আকিল। তাঁর কাছ থেকে একটি কালো টয়োটা ফর্চুনার গাড়ি এবং ডুপ্লিকেট চাবি উদ্ধার করে পুলিশ। যে গাড়িতে তাঁরা দিল্লিতে এসেছিলেন সেটাও ছিল চুরির গাড়ি। নতুন বছরের প্রথম দিনে বড়সড় চুরির পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
আকিল জানিয়েছেন, আনন্দ বিহার থেকে তাঁরা অনেক গাড়ি চুরি করেছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে শ্যালক সাজিদ এবং কয়েকজনের সঙ্গে মিলে উত্তর প্রদেশের এক গ্যাং লিডারের সহযোগিতায় এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছিলেন তাঁরা। অভিযুক্ত আকিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে চুরি করা গাড়িও।
চুরি করা গাড়ি অরুণাচল প্রদেশ এবং মণিপুরে বিক্রি করতেন আকিল এবং সাজিদ। ইঞ্জিন এবং চেসিস নম্বর বদলে সেগুলো বিক্রি করা হত। তাঁরা এখনও পর্যন্ত ৫০টির বেশি ফর্চুনার গাড়ি চুরি করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন আকিল।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিন্ডিকেটে আর কে কে যুক্ত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে গ্যাং লিডারের মদতে শ্যালক আর জামাইবাবু মিলে চুরি-চক্র চালাচ্ছিলেন, তাঁর খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
