স্বৈরাচারী দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ? আগে শেখ হাসিনা আর এখন খালেদা জিয়া দেশ ছাড়লেন, পড়ুন কী কারণ

স্বৈরাচারী দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ? আগে শেখ হাসিনা আর এখন খালেদা জিয়া দেশ ছাড়লেন, পড়ুন কী কারণ
গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। বর্তমানে বাংলাদেশে মোহাম্মদ ইউনূসের সরকার আছে, কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দেখে যদি বলা হয়, সরকার ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে, তাহলে ভুল হবে না। সেটা সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনই হোক বা ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহার বা সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতাই হোক। ইউনূসের বর্তমান সরকার কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে মনে হচ্ছে। এসবের মধ্যেই এখন খবর আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সভাপতি খালেদা জিয়াও দেশ ছেড়ে লন্ডন যাচ্ছেন। বিশেষ বিষয় হলো, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিতে চলেছে তখনই তার এই সিদ্ধান্ত এসেছে। শেখ হাসিনার পর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় নেত্রী যিনি গত এক বছরে দেশ ছাড়ছেন। গত বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

দেশ ছাড়ার কারণ কী ছিল?

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার বিএনপি দল অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিলেও বেশ কিছুদিন ধরে বর্তমান সরকার ও বিএনপি দলের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের দ্বারা নতুন দল গঠনের কথা ছিল। এর পর থেকেই বর্তমান সরকার ও বিএনপি দলের মধ্যে কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তবে দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে খালেদা জিয়া তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বলে উল্লেখ করেছেন।

এনডিটিভিতে সর্বশেষ এবং ব্রেকিং নিউজ

ইউনূস কি চায়, শুধুই তার রহস্য?

গত বছর মোহাম্মদ ইউনূস যখন বাংলাদেশে সরকারের লাগাম টেনে নেন, তখন মনে করা হতো তিনি দেশের গণতন্ত্রকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গত ছয় মাসে তাঁর সরকার যে ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সেরকম কিছুই হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। এমতাবস্থায় এখন প্রশ্ন উঠেছে ইউনূস সরকার কি সত্যিই পরিস্থিতি সংশোধনের চেষ্টা করছে? নাকি এটা নিছক একটা ভান? কারণ ভারত যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে তাদের আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বর্তমান সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও সহিংসতা বন্ধে সফল হবে। কিন্তু এরকম কিছুই হয়নি এবং আজও বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এখন এটাও মনে করা হচ্ছে যে, মোহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান সরকার চায় না দেশের পরিস্থিতি এমন হোক যাতে তারা ক্ষমতা হারায়। এর কারণও কয়েকদিন আগে বিএনপি দল নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললে বর্তমান সরকার দেশের পরিস্থিতি খুবই সহিংস এবং এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে তা স্থগিত করেছিল।

এনডিটিভিতে সর্বশেষ এবং ব্রেকিং নিউজ

1972 সালে কার্যকর করা সংবিধান বাতিলের প্রস্তুতি

বাংলাদেশের সংবিধান প্রসঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিছুদিন আগে বলেছিল, তারা শিগগিরই ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের দাবি জানাবে। ছাত্ররা দেশের সংবিধানকে মুজিববাদী সংবিধান বলে আখ্যায়িত করেছিল। এতে ভারতীয় আগ্রাসনের পথ খুলে গেছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। বাংলাদেশ সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যেও এই ইস্যুতে বিরোধ রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মনে করে যে সংবিধান আগে প্রণীত হয়েছিল তা বর্তমান পরিস্থিতিতে খাপ খায় না। অতএব, এটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে।

এনডিটিভিতে সর্বশেষ এবং ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশে আরেকটি আন্দোলনের প্রস্তুতি

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের বর্তমান মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আবারো একটি বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি ছাত্ররা ঐক্যের জন্য স্টুডেন্ট মার্চে জড়ো হচ্ছেন। বলা হচ্ছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও প্রথম আন্দোলনে নিহতদের বিচার দাবি করছেন। এমনটা হলে বাংলাদেশে আন্দোলনের মাধ্যমে আবারো অভ্যুত্থানের ভুমিকা তৈরি হতে পারে।

এনডিটিভিতে সর্বশেষ এবং ব্রেকিং নিউজ

১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো ঢাকায় ফিরবে পাকিস্তানি সেনারা

এখন বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটছে যা স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। সূত্রমতে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আবারও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যদি এটি ঘটে তাহলে ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এখন এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে যে অবস্থা হয়েছিল, বাংলাদেশে আবার সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা প্রত্যাহারের খবর প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

(Feed Source: ndtv.com)