
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আগামী বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৯ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান আয়োজন করছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (Champions Trophy 2025) । ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট শেষবার হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। চার বছর অন্তর এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ৮ বছর পর আইসিসি-র (ICC) পরিচালনায় ফিরছে এই মেগা টুর্নামেন্ট। যা অনেকে মিনি বিশ্বকাপও বলে থাকেন।
ভারত প্রথম থেকেই বলে আসছিল যে, আটারির ওপারে কিছুতেই খেলতে যাবে না। যদিও পাকিস্তান ছিল নাছোড়বান্দা। কিন্তু আইসিসি-র চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিসিবি নতিস্বীকার করে নেয়। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্তানেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হবে, তবে হাইব্রিড মডেলে খেলা হবে। ভারত-পাকিস্তান খেলবে নিরপেক্ষ দেশ দুবাইয়ে। যার মানে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক পাকিস্তানের সঙ্গেই দুবাইও!
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের কথা মাথায় রেখে পিসিবি-কে একাধিক স্টেডিয়ামকে প্রায় ভেঙে তৈরি করতে হচ্ছে, নাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে না স্টেডিয়ামগুলি। তালিকায় রয়েছে করাচির জাতীয় স্টেডিয়াম, লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়াম ও রাওয়ালপিণ্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দেশের তিন প্রধান স্টেডিয়ামের আপগ্রেডশনের কাজ এমনই ঢিমে তালে হচ্ছে যে, দেখলে মনে ৪১ দিন নয়, ৪০০ দিন পর আইসিসি-র মেগা ইভেন্ট সেই দেশে। পিসিবি-র ১৮ মাসে বছরের গতি দেখে সকলেই থ! একাধিক ভিডিয়ো ভাইরাল হচ্ছে নেটপাড়ায়, যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে স্টেডিয়ামগুলি একেবারে তৈরি নয় অথচ দিন ক্রমেই এগিয়ে আসছে…
এক সর্বভারতীয় মিডিয়া পিসিবি-র এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে স্টেডিয়ামের কাজের প্রসঙ্গে রিপোর্ট করেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘এটা খুবই হতাশাজনক চিত্র।আমাদের তিনটি স্টেডিয়ামই এখনও প্রস্তুত নয়। সংস্কারের কাজ নয় বরং বলা ভালো হবে নির্মাণের কাজ চলছে। আসন থেকে শুরু করে ফ্লাডলাইট, বাকি সুযোগ-সুবিধা, এমনকী আউটফিল্ড ও খেলার মাঠ-সহ অনেক কাজ বাকি। এখনকার আবহাওয়া দ্রুত গতিতে স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সমাপ্তির কাজের আদর্শ নয়। গদ্দাফিতে প্লাস্টারের কাজও শেষ হয়নি। এবং বেশিরভাগ সময় কাজ শেষ করতেই কেটে যায়, আমরা ড্রেসিং রুম ইত্যাদির কথা বলছি। এগুলি কেবল আইসিসি ইভেন্টের জন্য যে কোনও রকমের ঘর হতে পারে না। আইসিসির চেকলিস্ট রয়েছে যা পূরণ করতে হবে। সময় না থাকায় জাতীয় স্টেডিয়াম নতুন ভাবে শেষ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত অগস্টে শুরু হওয়া স্টেডিয়াম রিমডেলিংয়ের কাজে হাত দিয়েছিল পিসিবি। কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বরের ভিতর তা হয়ে যাওয়ার। কথা একেবারে কথাতেই রয়ে গেল! গত ২৫ জানুয়ারি ছিল আইসিসি-কে স্টেডিয়াম জমা দেওয়ার ডেডলাইন, তা মিস করেছে পাকিস্তান। আইসিসি-র কাছে এরপর সময় বাড়ানোর অনুরোধ করে পিসিবি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দিয়েছে শেষ ডেডলাইন। পাকিস্তান যদি আগামী তিনদিনের ভিতর কাজ শেষ করতে না পারে তাহলে হয়তো আইসিসি তাদের কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের অধিকার কেড়ে নিতে পারে!
(Feed Source: zeenews.com)
